সংবাদ প্রকাশের পরেই নড়েচড়ে বসল রাজ্য মহিলা কমিশন। ছেলের হাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা মা রানু বালা সরকারের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা সহ একটি প্রতিনিধি দল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আমতলী থানার অন্তর্গত সেকেরকোট নেতাজী সুভাষ কলোনি সংলগ্ন সাব-সেন্টার এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা রানু বালা সরকার অভিযোগ করেছিলেন, গত শনিবার ছোট ছেলে বাচ্চু সরকারের হাতে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। রবিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে প্রশাসনিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সোমবার বিকেলে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা সহ একটি প্রতিনিধি দল রানু বালা সরকারের বাড়িতে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মা ও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা। উভয় পক্ষই নিজেদের বক্তব্য এবং অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত ছেলে বাচ্চু সরকার কমিশনের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, মানসিক চাপ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে কমিশনের কাছে আরও অভিযোগ ওঠে যে, রানু বালা সরকারের বড় ছেলে বাদল সরকার, যিনি বিএসএনএলে কর্মরত এবং বর্তমানে আগরতলার প্রতাপগড় এলাকায় বসবাস করেন, তিনি পিতৃসম্পত্তির বড় অংশ ভোগ করলেও বৃদ্ধা মায়ের দেখভাল কিংবা খোঁজখবর নেন না।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঝর্না দেববর্মা বলেন, মা-বাবার প্রতি অবহেলা এবং নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যেসব সন্তান মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, তারা সমাজের কাছে কলঙ্কিত। সন্তানদের মানুষ করতে মা-বাবার আজীবনের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, গর্ভধারিণী মায়ের উপর এমন আচরণ রাজ্য মহিলা কমিশন কখনও মেনে নেবে না। সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজ্য মহিলা কমিশনের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বৃদ্ধা মায়ের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দেখভালের বিষয়টি এখন কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকেই নজর সকলের।



