ত্রিপুরা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার দপ্তরের অধীনে পরিচালিত বিশ্বব্যাঙ্ক অর্থায়িত ত্রিপুরা রুরাল ইকোনমিক গ্রোথ অ্যান্ড সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট (TRESP)-এর ৬ষ্ঠ ইমপ্লিমেন্টেশন সাপোর্ট মিশন (ISM) এবং মিড-টার্ম রিভিউ (MTR) উপলক্ষে আজ রাজ্য সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব শ্রী জে. কে. সিনহা, আইএএস।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের টাস্ক টিম লিডার মিস প্রীতি কুমার, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞগণ, রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, বিভিন্ন লাইন বিভাগের প্রতিনিধি এবং ট্রেসপ প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
বৈঠকে ট্রেসপ প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে প্রকল্পের অগ্রগতি বর্তমানে “Moderately Satisfactory” পর্যায়ে রয়েছে এবং গত ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে কমিউনিটি ইনস্টিটিউশনগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশকে কার্যকরী মূলধন (Working Capital) প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদক গোষ্ঠীগুলিকে (Producer Groups) আরও সক্রিয় করে তোলা, সমষ্টিগত বিপণন (Collective Marketing), কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগের সম্প্রসারণ এবং টেকসই ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ট্রেসপ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের টাস্ক টিম লিডার মিস প্রীতি কুমার প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা ও সুসংগঠিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, কার্যকর মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানবসম্পদের কৌশলগত ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মুখ্যসচিব শ্রী জে. কে. সিনহা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ, পরিকাঠামো, লজিস্টিক বা মানবসম্পদ সংক্রান্ত কোনো ঘাটতি থাকলে রাজ্য সরকার তা পূরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নির্বাচন আচরণবিধি এবং দীর্ঘস্থায়ী বর্ষাকালীন পরিস্থিতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি প্রভাবিত হলেও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্প নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবে।
২০২৪ সালে শুরু হওয়া ছয় বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের জন্য মিড-টার্ম রিভিউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন, চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং আগামী বছরগুলিতে প্রকল্পের লক্ষ্য ও মাইলস্টোন অর্জনের জন্য কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
আগামী কয়েকদিন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন জেলা, ব্লক ও গ্রাম পরিদর্শন করে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান করবে।



