বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশন নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তীব্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার সাক্ষী থাকল। অধিবেশনে মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে দেশজুড়ে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা এবং নারীদের জন্য লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমা পুনর্নির্ধারণ শুরু করার জন্য কেন্দ্রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে প্রশ্ন ওঠে। সিপিআই(এম) বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তী প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে একে রাজনৈতিক প্রয়াস বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, নারী সংরক্ষণ নিয়ে কোনও দলের আপত্তি নেই; বরং প্রয়োজনে ৩৩ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমর্থন রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইতিমধ্যেই পাশ হওয়া বিল সামান্য সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় নারী সংরক্ষণকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, তৃণমূল স্তরে নারীর ক্ষমতায়নে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে তফসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নির্ভুল ও হালনাগাদ জনগণনা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় স্পষ্ট হয়, নারী সংরক্ষণ নীতির মূল বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিস্তৃত ঐকমত্য থাকলেও, এর বাস্তবায়নের সময়, পদ্ধতি এবং ডিলিমিটেশনের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে মতভেদ এখনও কাটেনি।
ত্রিপুরা বিধানসভার এই বিশেষ অধিবেশন নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।



