পণের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে অবশেষে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত মামলা দায়ের করলেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি আমতলী ও বোধজংনগর থানার অন্তর্গত দুই এলাকার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে আমতলী এলাকার নেতাজী সুভাষ কলোনির বাসিন্দা রূপচান বেগমের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহ হয় বোধজংনগর এলাকার রতন নগরের বাসিন্দা কবির হোসেনের। বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীর উপর পণের টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। আর্থিক অনটনের কারণে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
বিয়ের এক বছর পর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন গৃহবধূ। একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
শেষপর্যন্ত কয়েক মাস আগে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে নিজের কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন রূপচান বেগম। অভিযোগ, এরপর স্বামী কবির হোসেন তাদের কোনো খোঁজখবর নেননি কিংবা বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেননি।
নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোধজংনগর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে লিখিত মামলা দায়ের করেন তিনি। নির্যাতিতার দাবি, এর আগেও একই অভিযোগে থানায় আবেদন জানানো হলেও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তা গ্রহণ করেননি।
এই ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গৃহবধূ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



