ত্রিপুরার ক্রীড়া জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান ‘কিংস লিন নিবেদিত জগমোহন ডালমিয়া স্মৃতি ত্রিপুরা ক্রীড়া সম্মান ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো এমবিবি স্টেডিয়াম সংলগ্ন আগরতলা ক্লাবে। রাজ্যের ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়া চিত্র সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন আগরতলা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাব (ASJC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদ, কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব কল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতের তারকা জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার, বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক সুভেন রাহা, অর্চিষ্মান ভাদুড়ী, রূপক বসু, ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের সচিব সুকান্ত ঘোষ-সহ রাজ্যের বহু বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়াপ্রেমী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের সংবর্ধনা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন আগরতলা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ গোপ। এরপর প্রয়াত ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ কমল সাহা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ত্রিপুরায় ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের সম্মাননা আগামী প্রজন্মকে ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
সম্মাননা ও পুরস্কারপ্রাপ্তরা
এবারের অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা কোচ হিসেবে সম্মানিত হন—
- অলক দেবরায়
- জয় কিশোর দেববর্মণ
- রুমা দাস
- সুবোধ দেববর্মণ
- অমিয় কুমার দাস
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে সম্মাননা পান—
- ঝুমকি দেবনাথ
- সপ্তজিৎ দাস
- শ্রেয়াঙসি রায়
- জাবেত ডারলঙ
- গৌরব দেববর্মণ
- রিকসন দেববর্মণ
- ঋত্বিকা দাস
- আকাশ ভৌমিক
এছাড়া বর্ষসেরা কোচিং সেন্টার হিসেবে সম্মানিত হয় আগরতলার এগিয়ে চল সংঘ।
জীবন কৃতি সম্মান প্রদান করা হয় বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক সুভেন রাহা এবং ক্রীড়া সংগঠক মানিক কাজি-কে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা পুরস্কারপ্রাপকদের হাতে ট্রফি ও স্মারক তুলে দেন। পাশাপাশি ছিল মেগা লাকি ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিশু শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। বাঁশির সুরে দর্শকদের মুগ্ধ করেন অনিকেত দাস। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শুভজিৎ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান শেষে আগরতলা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের সম্পাদক সন্তোষ গোপ জানান, সকলের সহযোগিতায় এ বছরের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্পনসর, অতিথি, অংশগ্রহণকারী এবং সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে এই ক্রীড়া সম্মান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ত্রিপুরার ক্রীড়া জগতে কৃতী খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সংগঠকদের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানকে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়ামহল।



