বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১০ ই অক্টোবর…… শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার খোয়াই নতুন টাউন হলে অনুষ্ঠিত হল খোয়াই কালচারাল সেলের উদ্যোগে সংস্থার সপ্তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে আগমনী অনুষ্ঠান এসো মা।এই অনুষ্ঠানের উৎভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এছাড়াও অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভায় মুখ্য সচেতক শ্রীমতি কল্যাণী সাহা রায় , বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা, জেলা সভাপতি সমীর কুমার দাস, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি অপর্না সিংহ রায়, খোয়াই থানার ওসি প্রজিত মালাকার, খোয়াই কালচারাল সেলের সভাপতি দীপঙ্কর ভট্টাচার্যী কাউন্সিলর পিযোস কান্তি চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলের তোড়া এবং উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।এর পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন মা দূর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে।এরপর শেষে বক্তব্য রাখেন এই অনুষ্ঠানের উৎভোধক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন আদি অনন্ত কাল থেকে প্রতি বছর শরতের ঝৃতুতে আশ্বিন মাসে মা দৃর্গার আবির ভাব হয় মর্ত লোকে অসুভ শক্তিকে দমন করতে এবং দূর্গতদের উদ্ধার করতে, তাইত মাকে বলাহয় দূরগতি নাশিনি।এই আশ্বিন মাসে যখন নদীর তীরে কাশবনে কাশফুল বাতাসে দোল খায় আর ভোরে কুয়াশা পড়ে, এবং প্রকৃতির এক অনবদ্ধ শৃষ্টি শিউলি ফুলের আবির্ভাবও ঘটে তখনই। একদিকে নদীর তীরে কাশবনে কাশফুলের দোলা ভোরে ঘাসের উপর শিশির ভেজা মাঠ অন্যদিকে শিউলি ফুলের সুবাসে সমস্ত পরিবেশ এই ফুলের সুবাসে সবাইকে মহিত করে তুলে।আর তাতেই প্রকৃতি জানান দেয় মার আগমনীর বার্তাযর। মন্ত্রী এও বলেন আমরা মানবরা পরিবর্তন হয়ে গেলেও প্রকৃতি কিন্তু পরিবর্তন হয়নি।তার নিজস্ব সত্তায় ঝৃতু পরিবর্তন করে না সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে যায়।কেন মর্তে মার আগমন ঘটেছিল সেই বিষয়ে ব্যাক্ষা করতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন একসময় অশুর জাতি দেবলোক এবং মর্ত লোকে প্রচন্ড উৎপাত করছিল তাদের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাচ্ছিল না।তখন সমস্ত দেবতারা মিলে ইন্দ্রের কাছে স্মরনাপন্ন হয় এর একটি বিহীত করায় জন্য।এরপর সবাই মিলে ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রক্ষ্মা, বিষ্ণু এবং মহশ্বর অর্থাৎ শিবের কাজে গিয়ে এর বিহীতের জন্য উপায় চাইলেন।তখন সমস্ত দেব দেবীরা মিলে তাদের শক্তিতে মহালয়ার দিনে আবির ভাব হয় এক দেবীর সেই দেবির নামাকরন হয় মা দূর্গা অশুর দমনের জন্য। পিতৃ পক্ষ শেষ হয়ে এই মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় দেবি পক্ষের।দেবি পক্ষেত দেবির আগমন হল কিন্তু অশুরকে বধ করতে চাই অস্ত্র।সেই অস্ত্র দেবিকে প্রদান করলেন সমস্ত দেবতারা মিলে।এরপর রাক্ষস কুলের রাজা মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধ বাধে মা দূর্গার। প্রচন্ড যুদ্ধের পর অশুভ শক্তির অধিকারী মহিষাসুরকে বধ করেন মা দূর্গা এবং তাতে স্বর্গ এবং মর্ত লোকের সবাই রক্ষা পায় এবং এরপর থেকে মর্তে মা দূর্গার পূজার রিতি ও নিতি চালু হয়।অশুভ শক্তিকে সরিয়ে শুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটান মা দূর্গা।এর পর থেকেই প্রতি বছর শরতের ঝৃতুতে আশ্বিন মাসে মার আগমন ঘটে তার সন্তান দের সমস্ত দুঃখ দূরদশা থেকে মুক্তি দিতে এর জন্য সমস্ত বাঙালিরা এই সময় নিজেদের কল্যাণার্থে মার পূজায় ব্রতী হয় এটাই মার আগমনীর তত্ব।এর পর উৎভোধনি অনুষ্ঠানের শেষে দর্শকদের অনুরোধে মন্ত্রী শুধাংশু দাস কয়েকটি গান গেয়ে দর্শকদের ব্যাপক করতালি কুড়িয়ে নেন।



