মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এই দাবিকে সামনে রেখে আগামীকাল শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামার কথা বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির। আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে না পারলেও এই কর্মসূচির পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নজির গড়লেন ত্রিপুরার বামুটিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগলপুর এলাকার একাংশ কৃষক। আন্দোলনকে সফল করে তুলতে এলাকার কৃষকরা নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করেন। শুক্রবার সংগৃহীত মোট ১৬ হাজার ২৫০ টাকা এলাকার বিধায়কের উপস্থিতিতে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব এবং এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রীতম শীলের হাতে তুলে দেন তাঁরা। সংগৃহীত এই অর্থ দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্র-যুবরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচিতে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ভাগলপুর এলাকার কৃষকরা। কৃষকদের এই উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করা সম্ভব না হলেও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এদিন কৃষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব বলেন, কৃষকদের এই উদ্যোগ আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের আরও উৎসাহিত করবে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, ভোট চুরির মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা দেশবাসী মেনে নিতে পারছেন না। নবারুণ দেব আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে যে আন্দোলন গড়ে উঠছে, তা আগামী দিনে আরও জোরদার হবে। আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। দিল্লির আন্দোলনে সরাসরি যোগ দিতে না পারলেও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে ছাত্র-যুবদের পাশে দাঁড়িয়ে ভাগলপুরের কৃষকরা যে সংহতির বার্তা দিলেন, তা এদিনের কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে উঠেছে।



