চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে চলছে রেললাইন ও জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। ৭২ ঘণ্টার এই আন্দোলন কর্মসূচি শনিবার দ্বিতীয় দিনে পড়েছে। আর অবরোধের জেরে যান চলাচল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষজন। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষও বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়ছেন। এমনকি মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াত নিয়েও তৈরি হচ্ছে সমস্যা বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।
শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সুদীপ রায় বর্মনের বক্তব্য, নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য বারবার রেললাইন কিংবা জাতীয় সড়ক অবরোধ করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন থাকলেও এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তবে একইসঙ্গে আত্মসমর্পণকারী উগ্রবাদীদের দাবিগুলির বিষয়েও সরকারের দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যদি আত্মসমর্পণকারীদের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়গুলি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করত, তাহলে বারবার রাস্তা বা রেললাইন অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
সুদীপ রায় বর্মনের মতে, আন্দোলনের নামে রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কার্যত জনজীবন অচল হয়ে পড়ছে। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁর পরামর্শ, সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানির মধ্যে না ফেলে আন্দোলনকারীরা চাইলে আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন। তাতে আন্দোলনের দাবি সামনে থাকবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। এদিন আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের পুনর্বাসন প্যাকেজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর বক্তব্য, আত্মসমর্পণের সময় নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া ছিল। কতজন আত্মসমর্পণ করেছেন, কতগুলি অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা রয়েছে—এসব বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই পুনর্বাসন প্যাকেজ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
একইসঙ্গে হাজার হাজার নাম নথিভুক্ত করে শুধুমাত্র সুবিধাভোগী বাছাই করা হলে তারও একটি নির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ ভিত্তি থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। যাঁরা সত্যিই উগ্রবাদী জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন, তাঁদের বৈধ দাবিগুলি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলেও জানান কংগ্রেস বিধায়ক। তবে পুনর্বাসনের নামে অস্ত্র সমর্পণ বা সংশ্লিষ্ট কোনও অভিযোগের ভিত্তি নেই—এমন ভুয়া বা কাল্পনিক নামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থ এনে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা কোনওভাবেই সঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন সুদীপ রায় বর্মন। সব মিলিয়ে, ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি বাস্তবায়নের প্রশ্ন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ—দুই দিক সামলে প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



