দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট দার্শনিক ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন ৫ সেপ্টেম্বর। তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করেই প্রতিবছর দেশজুড়ে পালিত হয় জাতীয় শিক্ষক দিবস। সমাজ ও জাতি গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরাই এই দিবস উদযাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গোটা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরাতেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় শিক্ষক দিবস। এরই অংশ হিসেবে শনিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হলো রাজ্যস্তরীয় শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান।
বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ড. সুমিত রায় চৌধুরী-সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী কিশোর বর্মন-সহ অন্যান্য অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং সেখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদানের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভিলেজ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এদিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত করা হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষকদের ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন না, একইসঙ্গে তাঁদের চরিত্র, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরাই সমাজ ও জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষকদের শিক্ষা, দায়িত্ববোধ এবং নিষ্ঠার উপর। শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করে তাঁদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকরা পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পেছনে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলেন শিক্ষকরা। তাঁদের নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কর্তব্যবোধ ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিক্ষক দিবসের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও একটি বার্তা দেওয়া হয়। বর্তমান প্রজন্মকে শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
রাজ্যস্তরীয় এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে শিক্ষা মহলেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
সব মিলিয়ে, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে পালিত জাতীয় শিক্ষক দিবসে আগরতলায় রাজ্যস্তরীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করা হলো। একইসঙ্গে সমাজ ও জাতি গঠনে শিক্ষক সমাজের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্মাণে তাঁদের গুরুত্বের বিষয়টিও উঠে এলো।



