চুরি-কাণ্ডের তদন্তে নেমে ফের বড়সড় সাফল্য পেল আগরতলা শহরের পুলিশ। জিবি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ থেকে চিকিৎসকের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে নিউ ক্যাপিটেল কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন-সহ বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া একাধিক সামগ্রী। সম্প্রতি জিবি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একটি রুম থেকে এক চিকিৎসকের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরি যায়। ঘটনার পর বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয় নিউ ক্যাপিটেল কমপ্লেক্স থানায়। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখার পর পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে।
পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে জিবি হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া চিকিৎসকের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর ধৃত ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই চুরি-কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভয়নগর আউটপোস্টের পুলিশ আগরতলা সার্কিট হাউস এলাকা থেকে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের দাবি, দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চুরি হওয়া মোট পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলির মধ্যে সম্প্রতি সরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী আবাসন থেকে চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোনও রয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় অভিযুক্তকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পেশ করে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলির প্রকৃত মালিকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিউ ক্যাপিটেল কমপ্লেক্স থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, উদ্ধার হওয়া সমস্ত মোবাইল ফোন তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে এই চুরি-কাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে। জিবি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনার সূত্র একে একে সামনে আসায় পুলিশের এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেদিকেই নজর রয়েছে।



