প্রতিবছরের মতো এবারও রাজ্যের দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াল উমপদ বর্মন ও অঞ্জলি বর্মন ট্রাস্ট। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে রবিবার আগরতলার মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। এদিন রাজ্যের ৯৩ জন দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর হাতে নগদ ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং বই তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ড. বুধারায় দেববর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ট্রাস্টের এই উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, রাজ্যের স্বনামধন্য আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন ও গৌতম রায় বর্মনের বাবা-মা উমপদ বর্মন ও অঞ্জলি বর্মনের স্মৃতিকে সামনে রেখে এই ট্রাস্ট গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছরই রাজ্যের দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে ট্রাস্ট।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থাকে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা পেয়ে আত্মসন্তুষ্টিতে ভেসে গেলে চলবে না। এই সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। তবে যারা এই সহায়তা পাচ্ছে, তাদের বাইরেও সমাজে বহু দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী রয়েছে, যাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানিক সরকার বলেন, এটাই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বপ্ন। ভারতবর্ষকে নতুনভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নতুন প্রজন্মকে দেখতে হবে। শুধু পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়, প্রকৃত অর্থে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হয়ে ওঠার লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা আজ ট্রাস্টের কাছ থেকে সহায়তা পেল, ভবিষ্যতে তাদেরও সমাজের অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্য দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করার ভূমিকা নিতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা শুধু বই বা পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা নিয়েই নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই আর্থিক সহায়তা আগামী দিনেও অব্যাহত রাখার বার্তা দেওয়া হয়।



