স্বাধীনতা দিবসের দিন ডুকলিতে এক যুবনেতার বাড়িতে আয়োজিত রক্তদান শিবিরে হামলা এবং বক্সনগরের কলমচৌড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এই দুই ঘটনাতেই কিছু দুর্বৃত্তকারী হামলা চালায় এবং আক্রমণকারীরা শাসকদলের মদতপুষ্ট। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে শাসকদলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ডুকলি এলাকায় রক্তের সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে হামলা চালানো হয়। একইভাবে বক্সনগরের কলমচৌড়া এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতেও বাধা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে বর্তমানে রক্তের সংকটের কথা উল্লেখ করে বামপন্থী সংগঠনগুলির দাবি, এমন সময়ে মানবিক উদ্দেশ্যে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচির উপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকেও তারা গুরুতর বলে অভিহিত করেছে।
এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে আগরতলা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে বামপন্থী চারটি ছাত্র-যুব সংগঠন— এসএফআই, টিএসইউ, ডিওয়াইএফআই এবং টিওয়াইএফ। সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক ছাত্র-যুব কর্মী ও সমর্থক। মিছিলটি আগরতলার মেলার মাঠস্থিত ছাত্র-যুব ভবন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে। বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রক্তদান কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করারও দাবি তোলেন তারা।
এদিনের বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং মানবিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগগুলির তদন্তে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।



