ত্রিপুরায় প্রাণী চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও জনমুখী করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাণী সম্পদ বিকাশ, মৎস্য ও তপশিলি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস রাজ্যের ৫০টি ব্লক-স্তরের মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সবুজ পতাকা নেড়ে এই বিশেষ পরিষেবা যানগুলির যাত্রার সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যের পশুপালকদের দোরগোড়ায় আধুনিক, সহজলভ্য ও কৃষকবান্ধব প্রাণী চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের ফলে প্রাণীর মৃত্যুহার কমবে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং পশুপালকদের আয় ও জীবিকার মান আরও উন্নত হবে। উদ্বোধনের পর্বে মন্ত্রী ও উপস্থিত অতিথিরা প্রতীকীভাবে চালকদের হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেন। এরপর নতুন মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিটগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবার জন্য রওনা করানো হয়। উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য সরকার ১৩টি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট চালু করেছিল। সেই পরিষেবার সাফল্যের ভিত্তিতে এবার প্রতিটি ব্লকে আধুনিক সরঞ্জামসমৃদ্ধ ৫০টি নতুন মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট চালু করা হলো, যাতে প্রত্যন্ত এলাকায়ও দ্রুত প্রাণী চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এই ইউনিটগুলি ১৯৬২ টোল-ফ্রি ভেটেরিনারি হেল্পলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। হেল্পলাইনে ফোন করলেই সংশ্লিষ্ট ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণীর চিকিৎসা, টিকাকরণ, কৃমিনাশক প্রদান, কৃত্রিম প্রজনন, গর্ভধারণ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা দেবে। সরকারের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু প্রাণীস্বাস্থ্যের উন্নয়নই নয়, দুগ্ধ উৎপাদন, পশুপালন ও প্রাণীভিত্তিক কৃষি অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



