Friday, October 16, 2026
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদখোয়াইতে ৩৮ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আধুনিক শপিং কমপ্লেক্সের...

খোয়াইতে ৩৮ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আধুনিক শপিং কমপ্লেক্সের ভূমি পূজন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা।

বাসুদেব ভট্টাচার্যী খোয়াই ১৫ ই অক্টোবর……বৃহস্পতিবার দুপুরে খোয়াই বই মেলা মাঠ প্রাঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহার হাত ধরে ৩৮ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের মাল্টি পারপাস শপিং কমপ্লেক্সের ভূমি পূজন ও তার ফলক উন্মোচন করেন । এছাড়াও ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে ২০ টি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও করেন তিনি । এই দিন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক শ্রীমতি কল্যাণী সাহা রায়, বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী ও বিকাশ দেববর্মা, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি অপর্ণা সিংহ রায়, জেলা শাসক রজত পন্থ, জেলা পুলিশ সুপার বোগাডি জগদীশ্বর রেড্ডি সহ অন্যান্যরা। এই দিন অনুষ্ঠানের মঞ্চে খোয়াই পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা ডঃ মানিক সাহাকে ফুলের তোড়া ও উত্তরিও পরিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।এর পর একটি গাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা হয়।এরপর খোয়াই বাসির বহুদিনের আকাঙ্খা ছিল খোয়াই লাল ছড়া স্থিত মহা স্বশান ঘাটে শবদেহ পূরানোর জন্য বৈদ্যুতিক চুল্লির ব্যাবস্থা করা। তাদের সেই আকাঙ্খা ও পুরন করলেন মুখ্যমন্ত্রী লালছড়া মহা স্বশান ঘাটে গিয়ে বুতাম টিপে বৈদ্যুতিক চুল্লির উৎভোধন করেন। এবং স্বশানে একটি বেল গাছ রোপণ করেন।এই দিকে আরেকটি খবড় পাওয়া যায় যে ভূমি পূজন অনুষ্ঠান মুখ্যমন্ত্রীর সাথে নিমন্ত্রিত ছিলেন বিধায়ক অনিমেষ দেববর্মা, তিনি এই অনুষ্ঠানে আসার পথে খোয়াই বাচাই বাড়ি এলাকাতে পথ অবরোধের শিকার হন বলে জানা যায় তাই ভূমি পূজন অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করতে পারেননি। শেষে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা বলেন এই পুণ্য লগ্নে মা দুর্গার আগমন ঘটেছে এর সাথে সাথে অনেকগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন হচ্ছে খোয়াই মহকুমার জন্য। উন্নয়নের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন থেকে শুরু করে উন্নয়নের আরেকটি মাইল ফলক যুক্ত হতে চলেছে খোয়াই মহকুমাতে। শুধু খোয়ই নয় রাজ্যের প্রত্যেকটি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দ্বার উদঘাটন চলছে। শুধু তাই না রাজ্যে চলছে উন্নয়নের যোয়ার এর পাশাপাশি শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য পরিষেবার আধুনিকরণ, উন্নত মানের যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা এগুলো নিশ্চিত করতে এবং আমাদের আত্মনির্ভর উন্নত শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গরে তুলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা বলেন খোয়াই মহকুমা বাসীদের জন্য আজকের দিনটি খুবই আনন্দের দিন। এই দিনটিতে খোয়াই মহকুমা বাসীদের জন্য ২০ টি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে। এই আধুনিক শপিং কমপ্লেক্সে থাকছে গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে আধুনিক বহু তল শপিং কমপ্লেক্স। এর ভুমি পূজন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে গেছে। এই শপিং কমপ্লেক্স তৈরি করতে খরচ হবে ৩৮ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ করছে জনসাধারণের জন্য । অন্যদিকে রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পানীয় জল বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গুলি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক হারে কাজ করে চলেছে। এবং আধুনিকরণের মাধ্যমে কিভাবে উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায় সেই বিষয়েও সরকার কাজ করে চলেছে। ২০২২ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত খোয়াই জেলাতে ৭১ টি প্রকল্পের শিলান্যাস হয়ে গেছে। যার আনুমানিক ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ১৯ টি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে বাকি ৫২টির কাজ চলছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও জাতীয় সড়ক নির্মাণ কাজের প্রথম ধাপে ২০৮ নং জাতীয় সড়ক খোয়াই থেকে তেলিয়ামুড়া পর্যন্ত কাজ চলছে। অন্যদিকে তেলিয়ামুড়া থেকে হরিনা পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে যেটা সাবরুমের কড়িডোর হিসেবে বিশাল মর্ডানালাইজ্ড করা হচ্ছে। তাতে খরচ হচ্ছে ১ শত ৬০ কটি ৭৯ লক্ষ টাকা। এছাড়া আগরতলা থেকে খোয়াই হয়ে কৈলাসর পর্যন্ত যাতিয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এখনো ১১৫ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয় করে খোয়াই আগরতলা খোয়াই কৈলাশহর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণ এর মডার্নেশনের জন্য হাতে কাজ নিয়েছে জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থা। এছাড়াও খোয়াই তুলাশিখর ব্লকের অন্তর্গত এলাকার গ্রামীন রাস্তা গুলি মেরামত এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১০৭ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার নদী ভাঙ্গন প্রকল্পের অন্তর্গত জল সংরক্ষণ, উর্বর জমি রক্ষা করা এবং নদীর পাড় ভাঙ্গন রোধের জন্য এক প্রকল্পের মাধ্যমে ৫১ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এইভাবে সিসি ব্লকের মাধ্যমে নদীর তীর ভাঙ্গন রোধের কাজ চলছে। শুধু তাই না এই ধরনের বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে। এর মধ্যে অনেকগুলি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে আবার অনেকগুলি প্রকল্পে্য কাজ দ্রুত গতিতে সম্পূর্ণ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক যোজনার মাধ্যমে পাকা ঘর বিলি করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

3 × 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য