Sunday, April 21, 2024
বাড়িখবরশীর্ষ সংবাদপি এন বি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দৌলতে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি...

পি এন বি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দৌলতে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিল বাম মারগিও এক নেতা।এমনটাই অভিযোগ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে

খোয়াই প্রতিনিধি ৩১ শে আগস্ট……বিগত বেশ কিছু দিন ধরে খোয়াই পি এন বি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠছে।যে পি এন বি খোয়াই ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুদীপ্ত বিশ্বাস উনি নাকি প্রায় সময়ই গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহার সহ উনার মর্জি মাফিক কাজ করে চলেছে বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সুদীপ্ত বিশ্বাস ত্রিপুরা বাসীকে একদমই পছন্দ করেন না বলেও অভিযোগ উঠছে। যেসব গ্রাহক রা উনাকে উৎকোচ দিতে পারে তাদের নামেই লোন মঞ্জুর করে দেন বাকিরা বাদ।এইসব করে বিগত দুই বছর ধরে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে বলে জানা যায়।তাতে ব্রাঞ্চের পরিষেবা একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। উনার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ গ্রাহকরা পি এন বি ব্রাঞ্চ থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্ট গুটিয়ে নিচ্ছে। খোয়াই শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সহ আগরতলা মন্ত্রী বাড়ি রোড স্থিত পি এন বি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আর্থিক নয় ছয়ের অভিযোগও রয়েছে । সম্প্রতি ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে সমঝোতা করে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ২১ লক্ষ টাকায় হাতিয়ে নিল সি পি আই এম এর এক মাফিয়া। বুধবার উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজার সহ খোয়াই পি এন বি ব্রাঞ্চের বিভিন্ন অফিসার গিয়ে খোয়াই সুভাষ পার্ক কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিধানচন্দ্র দেবের তিনটি বাড়ি কুড়ক করেন এবং উক্ত মাফিয়ার হাতে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেন পি এন বির আগরতলা এবং খোয়াই ব্রাঞ্চের অফিসারগণ। এই দিন সম্পত্তি কুড়ক করার সময় খোয়াই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের অফিসার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দীপঙ্কর সরকার। এই দিন সম্পত্তি কুড়ক এবং হস্তান্তর করার সময় উপস্থিত ছিলেন পি এন বি আগরতলা মন্ত্রী বাড়ি রোডের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বুদ্ধ দীপ্ত সরকার,ডি সি এম দীপঙ্কর সরকার, এল ডি এম সুব্রত মন্ডল এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহ খোয়াই পি এন বি ব্রাঞ্চের অন্যান্য আধিকারিকরী । ঘটনা সূত্রে জানা যায় যে ২০০৮ সালে আগরতলা মন্ত্রীর বাড়ি পিএনবি ব্রাঞ্চ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার লোন নেন সুভাষ পার্ক কালীবাড়ির এলাকার জনৈক বাসিন্দা বিধানচন্দ্র দেব। লোন নেওয়ার পর কয়েক কিস্তিতে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন এবং ২০১৪ সালে আরো ৫ লাখ টাকা দেন। তাতে করে তিনি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় উনি আর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। অবশেষে ২০১৬ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উনার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। নোটিশ পাওয়ার পর উনি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করতে পারোনি কারণ এই সময় তিনি গুজরাটে ছিলেন। পরে পুরো বিষয়টি আদালতে চলে যায়। আদালতের নির্দেশে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওনার সম্পত্তি কুড়ক করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক ২০১৬ সালে পি এন বি আগরতলা ব্রাঞ্চে বিনা বিজ্ঞাপনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নিলামের বিজ্ঞপ্তি পেয়ে পি এন বি আগরতলা ব্রাঞ্চের সাথে সি পি আই এমের মাফিয়া মানিক পাল যোগাযোগ করে বিধান দেবের এক বিশ্বস্ত লোকের কাছ থেকে।কারণ এই জায়গা সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যাংক কে মানিক পাল কিছু টাকা দেয় যাতে করে বিধান দেবের সম্পত্তিটা মানিক পাল পেতে পারে শেষে এক সময় ব্যাংক সিঙ্গেল টেন্ডার ডাকে সিঙ্গেল টেন্ডার ঢাকার ফলে সেই টেন্ডার বাতিল হয়ে যায় ।অপরদিকে পিএনবি আগরতলা শাখাকে মানিক পালের দেওয়া টাকা ব্যাংক ফিরিয়ে দিচ্ছিলনা এরপর মানিক পাল ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে সমঝোতা করে উচ্চ আদালতে মামলা করে।এই শর্তে এখন ব্যাংক মানিক পালে টাকা ফিরিয়ে দেবেনা হলে জায়গা বুঝিয়ে দিতে হবে।সেই মোতাবেক আদালত মানিক পালের স্বপক্ষে রায় দেয় যে মানিক পালকে সেই জায়গা কাগজপত্রে বুঝিয়ে দিতে হবে ।সেই মোতাবেক পিএনবি ব্রাঞ্চের সমস্ত কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশ পেয়ে বিধান দেবে বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় এবং জায়গা মাপ ঝোক করে জায়গা মানিক পাল এর কাছে হস্তান্তর করলেও সেই জায়গায় আসল মালিক মানিক পালের স্ত্রী স্মৃতি রানী পাল।৯০ এর দশকে মানিক পাল বাংলাদেশ থেকে এসে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে তৎকালীন চসিপিএম জামানায় এলাকার প্রাক্তন প্রধান খোকন চক্রবর্তীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে সুভাষ পার্ক কালীবাড়ি এলাকায় বিভিন্ন জমি এবং বাড়ি ক্রয় করা শুরু করে।শুধু খোয়াইতেই নয় আগরতলা রামনগর এলাকাতেও ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাড়ি বানিয়েছি। তৎকালীন সময়ে পশ্চিম গণকী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খোকন চক্রবর্তী এর হাত ছিল বলেও পরিচিত মানিক পাল।এও জানা যায় পি এন বি আগরতলা ব্রাঞ্চের জৈনিক ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সাথে পাঁচ লক্ষ টাকার সমঝোতার ভিত্তিতে একক ভাবে অকশনের টেন্ডার পেয়ে যান মানিক পাল এবং পাকা বাড়ি সহ চার গন্ডা জায়গার সম্পত্তির মালিক বনে যান মানিক পাল। বুধবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে পিএনবি খোয়াই এবং আগরতলা ব্রাঞ্চ আধিকারিক গন, বিধান চন্দ্র দেবের সম্পত্তি সিপিএম মাফিয়া মানিক পালের হাতে তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ মানিক পাল একাই বাম আমলে যেভাবে জমি ও সম্পত্তি ক্রয় করেছে সেটা আজও অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া একসময় মানিক পাল বাম আমলে বিভিন্ন রেশন ডিলারদের কাছ থেকে রেশন সামগ্রী এনে বাংলাদেশে পাচার করতো।আর তাতে করে পশ্চিম গনকি এলাকার প্রাক্তন প্রধান খোকন চক্রবর্তীর হাত ধরে ব্যাপক টাকা পয়সা বানান ।যার ফলে যেখানেই কোন সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে শুনতে পেলে মানিক পাল সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ সম্পত্তি গুলি কেনার জন্য ।এছাড়া বুধবার বিধানচন্দ্র দেবের বাড়ি হস্তান্তরের বিষয়ে পিএনবি ব্যাংকের ম্যানেজার সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে এবং এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে বিষয়টি সবাই এড়িয়ে যান সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে ।এর থেকে স্পষ্ট বুঝা গেছে মানিক পালের সাথে ব্যাংকের কিছু একটা লেন দেন হয়েছে ।যে জায়গায় দাঁড়িয়ে বিধান পাবে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর বিরান দেব ব্যাংকের কাছে কিছু সময় চেয়ে নিচ্ছিলেন যে কিছুদিনের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করবে কিন্তু ব্যাংক তাতে রাজি হয়নি ।কারণ সম্পত্তি ক্রয় করবে বলে মানিক পাল আগেই ব্যাংক কে উপঢৌকন দিয়ে রেখেছিল তার সুবাদে ব্যাংকের পরামর্শে মানিক পাল মামলা করে এবং জায়গা হাতিয়া নেয়।এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে খোয়াই সুভাষ পার্ক কালিবাড়ি এলাকায় মানিক পালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে ।একটি সূত্রে এও জানা যায় বিধানদেবের পরিবারের পক্ষ থেকে নাকি মানিক পালকেবলা হয়েছিল এই বিষয়ে মামলা না করতে কিছুদিনের মধ্যে মানিক পালের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে কিন্তু মানিক পাল নাকি সেই কথা শোনেনি জায়গা হাতিয়া নেবার জন্য যা যা করার তাই করছিল।এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে খোয়াই শহর জুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে যে একই পাড়ায় থাকে মানিক পাল কেন এ কাজটি করল।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য