রাজ্যে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। তার আগেই রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিরোধী শিবির। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজেপি বিরোধিতাকে সামনে রেখে এবার আগরতলার রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে নামল ইন্ডিয়া মঞ্চের ত্রিপুরা চ্যাপ্টার। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার রাজধানীতে বিশাল মিছিল সংগঠিত করে বিরোধী দলগুলি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ওরিয়েন্ট চৌমুহনি থেকে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল শুরু করেন বাম ও কংগ্রেস-সহ বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিলটি অফিস লেন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গতিপথ আটকে দেয়। এরপর ইন্ডিয়া মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে দাবি সনদ তুলে দেয়। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, গোপাল চন্দ্র রায়-সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
মিছিল শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মানুষ বিজেপির শাসন থেকে মুক্তি চাইছেন এবং সেই লক্ষ্যে ইন্ডিয়া ব্লক নেতৃত্ব দেবে। আসন্ন পুর নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়া ব্লক একসঙ্গে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বিধানসভা নির্বাচনের এখনও দীর্ঘ সময় বাকি থাকতেই বিরোধী দলগুলির এই সম্মিলিত কর্মসূচিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরের ঐক্য কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে থাকছে প্রশ্ন। কারণ, রাজপথে একসঙ্গে মিছিল করলেই ভোটের ময়দানে সেই ঐক্য কতটা বজায় থাকবে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের সময়ই। অন্যদিকে, নিজেদের কর্মসূচির পক্ষে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ভোটাধিকার ও সংবিধান রক্ষাই তাঁদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানা করে তিনি অশান্তি ও অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অভিযোগও তোলেন। পাশাপাশি আগামী দিনেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বিরোধী দলনেতা। সব মিলিয়ে, নির্বাচন এখনও অনেকটা দূরে থাকলেও বিরোধী শিবিরের তৎপরতায় রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এই মিছিল ও স্মারকলিপি কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারের সমর্থন কতটা আদায় করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



