রাজধানী আগরতলায় যানজট ও বেআইনি পার্কিংয়ের সমস্যা নতুন কিছু নয়। প্রশাসনের তরফে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হলেও, ব্যস্ত এলাকাগুলির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ সামনে আসছে। বিশেষ করে জিবি হাসপাতাল চত্বর এবং জিবি বাজার এলাকায় যানবাহন পার্কিং ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জিবি হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় অটো ও ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য ১০ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি জিবি বাজার এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বেআইনি পার্কিং রুখতে ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ পদমর্যাদার এক সেক্টর অফিসারের তত্ত্বাবধানে দুই শিফটে ট্রাফিক কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি স্তরে এই ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও, রাস্তায় তার সুফল কতটা দৃশ্যমান হচ্ছে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, শুধুমাত্র কর্মী মোতায়েন কিংবা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেই ট্রাফিক সমস্যার সমাধান হয় না। তার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে জিবি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের সামনে যানজট ও অপরিকল্পিত পার্কিং বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। রোগী নিয়ে আসা গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হাসপাতাল চত্বরের পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করা প্রয়োজন। একইভাবে জিবি বাজারের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং বেআইনিভাবে গাড়ি দাঁড় করানোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাফিক সুপারের দায়িত্ব শুধু দপ্তর পরিচালনা কিংবা অধস্তন কর্মীদের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমস্যাপ্রবণ এলাকাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা, নজরদারির ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করাও প্রশাসনিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঘোষিত পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তব ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসুক। যানজট কমানো, বেআইনি পার্কিং বন্ধ করা এবং ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও ট্রাফিক আইন কার্যকরের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক। সব মিলিয়ে, আগরতলার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগের বিবরণ সামনে এলেও তার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির উপর। এখন দেখার বিষয়, জিবি হাসপাতাল ও বাজার এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে যানজট ও পার্কিং সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



