Friday, October 23, 2026
বাড়িখবররাজ্যবারবার পিএসও বদল, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রণজিৎ দেববর্মার; নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে...

বারবার পিএসও বদল, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রণজিৎ দেববর্মার; নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুললেন বিধায়ক রণজিৎ দেববর্মা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েও কোনও উত্তর বা কার্যকর পদক্ষেপ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসওদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান বিধায়ক। একই সঙ্গে শহরে নিরাপত্তার অভাবের কথা উল্লেখ করে নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও প্রকাশ করেন তিনি। বিজয়া উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রণজিৎ দেববর্মা বলেন, বিধায়ক হওয়ার পর গত প্রায় সাড়ে চার বছরে একাধিকবার তাঁর নিরাপত্তারক্ষী পরিবর্তন করা হয়েছে। কখনও পুরনো পিএসও প্রত্যাহার করা হচ্ছে, আবার নতুন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে বারবার নিরাপত্তারক্ষী পরিবর্তনের ফলে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

বিধায়কের দাবি, গত বছরের অক্টোবরে দুর্গাপুজোর আগে তাঁকে না জানিয়েই এবং কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁর একজন পিএসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ১৩ অক্টোবর পুলিশ নিরাপত্তা বিভাগের কাছে চিঠি দেন তিনি। সেই চিঠির অনুলিপি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের কাছেও পাঠানো হয়েছিল বলে জানান রণজিৎ দেববর্মা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও জবাব পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। শুধু পিএসও পরিবর্তন নয়, নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবিতেও একাধিকবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তারক্ষী পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের তরফে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বলে কারণ জানাতে অস্বীকার করা হয়। এই মনোভাব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। রণজিৎ দেববর্মার আরও অভিযোগ, রাজ্যের অনেক জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে দীর্ঘ আট-নয় বছরেও পিএসও পরিবর্তন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করতে পারেন। অথচ তাঁর ক্ষেত্রে কেন বারবার এই পরিবর্তন করা হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। তিপ্রা মথার কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ক-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও একই ধরনের পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে উপজাতি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কোনও বৈষম্যমূলক মনোভাব কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিধায়ক। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছননি তিনি। তাঁর মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ সামনে আসা প্রয়োজন। সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রণজিৎ দেববর্মা বলেন, তিনি তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসওদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শহরে থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হয় বলে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরে না থেকে নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গ্রামে থেকেই সাংগঠনিক ও অন্যান্য কার্যকলাপ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান বিধায়ক। নিজের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে জনগণের প্রতি আস্থার কথাও তুলে ধরেন রণজিৎ দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, জনগণের মধ্য থেকেই তিনি উঠে এসেছেন। তাই নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বও জনগণের হাতেই ছেড়ে দিতে চান। জনগণ তাঁর পাশে থাকবেন এবং তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, পুলিশ প্রশাসনের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানান বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের কোনও কোনও আধিকারিকের কর্মকাণ্ড সরকারের অভ্যন্তরে বিরূপ পরিস্থিতি বা বিরোধ তৈরির কারণ হতে পারে। তাই এই ধরনের কাজের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা চিহ্নিত করে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তবে নিজের কোনও পিএসওর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন রণজিৎ দেববর্মা। তাঁর বক্তব্য, কোনও নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে বা তাঁর আচরণ নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তাঁর আপত্তি থাকত না। কিন্তু কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাঁকে না জানিয়ে বারবার পিএসও পরিবর্তন করার কারণ জানতে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক জানান, এখনও তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। রণজিৎ দেববর্মার এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তবে বিধায়কের তোলা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান কী, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

1 + nine =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য