Wednesday, October 21, 2026
বাড়িখবররাজ্যরামনগরে সাংবাদিক ও তাঁর ছেলের উপর হামলার অভিযোগ, আটক ১

রামনগরে সাংবাদিক ও তাঁর ছেলের উপর হামলার অভিযোগ, আটক ১

রাজ্যে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই গত ২০ অক্টোবর, নবমীর গভীর রাতে আগরতলার রামনগর ১ নম্বর রাস্তার যুব সংঘ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক অভিজিৎ ভট্টাচার্য ও তাঁর ছেলের উপর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। আক্রান্ত সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিম আগরতলা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর গভীর রাতে রামনগর ১ নম্বর রাস্তার যুব সংঘ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় জলসার আসর চলছিল। রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট নাগাদ রাস্তার একাংশ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও বাঁশ ফেলে পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় সাংবাদিক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের স্ত্রী ও ছেলে ওই পথ দিয়ে হেঁটে চলে যান। এরপর তিনি বাঁশ সরিয়ে বাইক নিয়ে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পাশের একটি গলিতে দাঁড়িয়ে মদ্যপানরত কয়েকজন যুবক তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক সাংবাদিক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের উপর শারীরিকভাবে চড়াও হয়। বাবার উপর হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করার চেষ্টা করে তাঁর ছেলে। সেই সময় হামলাকারীরা তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ছেলের উপরও মারধর করা হয়। এই ঘটনায় বাবা ও ছেলে দু’জনেই আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর আক্রান্ত সাংবাদিক পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে আইনানুগ পদক্ষেপের আবেদন জানান। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার আইজিএম হাসপাতালে যান এবং আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বুধবার সকালে প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকারও অভিজিৎ ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাংবাদিকের উপর এই হামলার অভিযোগে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার-সহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

এদিকে, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও রাতের জলসার অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, রাত ১২টার পর উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে জলসা বা এ ধরনের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ রয়েছে। তাহলে যুব সংঘ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় রাত ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কীভাবে উচ্চস্বরে বক্স বাজিয়ে জলসার আসর চলল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওই অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অনুমতি থাকলে তার শর্ত মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ শেষ হওয়ার পর বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা কয়েকজনের নামও সামনে এসেছে। তাঁরা হলেন সম্রাট দেব, বাবা মানিক দেব, দেবাশীষ ভট্টাচার্য, শুভম কর্মকার, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য, অভিজিৎ বর্মন ও সুপ্রদীপ গুপ্ত। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা এবং বিশেষ করে সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার, পুলিশ তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, রাতের জলসার অনুমতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের কী নিষ্পত্তি হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

11 − 3 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য