মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজ্যে কংগ্রেস ও দলের বিভিন্ন গণসংগঠনের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ভোট চুরি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে এবার গণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করল কংগ্রেসের সেবা দল। বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রদেশ কংগ্রেস ভবন প্রাঙ্গণে এই গণ অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। গণ অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরায় নির্বাচনের পরিবেশ ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন এলেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় ভোটারদের।
আশীষ কুমার সাহার অভিযোগ, সাহস করে ভোট দিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের উপর হামলা এবং নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের হেনস্থা করার ঘটনা রাজ্যে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনে শাসকদলের লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীরা ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে এডিসি, ভিলেজ কাউন্সিল এবং লোকসভা নির্বাচন—কোনও ক্ষেত্রেই প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচন ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলগুলির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না করে সংশ্লিষ্টদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভোটার তালিকা নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন আশীষ কুমার সাহা। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং অবৈধ ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে যে অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন পরিচালনার সময় কোনও ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি। সেবা দলের এই গণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি পুনরায় সামনে আনা হয়। পাশাপাশি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।



