Sunday, September 27, 2026
বাড়িখবররাজ্যপুর নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রদেশ কংগ্রেস, কর্মী সম্মেলনে সরকারের বিরুদ্ধে সরব সুদীপ

পুর নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রদেশ কংগ্রেস, কর্মী সম্মেলনে সরকারের বিরুদ্ধে সরব সুদীপ

পাহাড়ের ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এবার নজর রাজ্যের নগর ও পুর সংস্থার নির্বাচনের দিকে। আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের ২১টি নগর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নগর নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই বিরোধী কংগ্রেসও। রবিবার বাধারঘাট ব্লক কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় কর্মী সম্মেলনের। লোকনাথ চৌমুহনী এলাকায় এক কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দলীয় সংগঠন ও আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বানি ঘোষ চক্রবর্তী, প্রদেশ কংগ্রেস এসসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন ঘোষ-সহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

এদিনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমালোচনা করেন এবং রাজ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে আইনের শাসন নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কথা শোনার ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মানুষের সঙ্গে কথা না বললে তাঁদের সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন, রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বা ত্যাগের অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিরা রাজনীতির ময়দানে এসে ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছালে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, রাজ্যে বর্তমানে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের কার্যকলাপ ও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কর্মী সম্মেলনকে কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে পুর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সাধারণ মানুষের ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই কর্মীদের নিয়ে এই ধরনের বৈঠক ও সম্মেলন বাড়ানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের ২১টি নগর স্থানীয় সংস্থার জন্য ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট ৭৮৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পাহাড়ের নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পর পুর ও নগর সংস্থার ভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই এখন নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

nineteen − seven =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য