ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগ যেন কিছুতেই থামছে না। সীমান্তের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে একাংশ পাচারকারীর হাত ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসছে। এবার এমনই এক ঘটনায় বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে তিন বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করল পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় নাগরিককেও সন্দেহভাজন টাউট হিসেবে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল বিকেলে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক ঘোরাফেরা করছে—এমন খবর পুলিশের কাছে আসে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিমানবন্দর থানার পুলিশ। সেখান থেকে এক পুরুষ ও তিন মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন মহিলা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলায়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, কর্মসংস্থানের সন্ধানেই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই কীভাবে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করলেন, সেই প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোনামুড়া সীমান্ত দিয়েই ওই তিন বাংলাদেশি মহিলা ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় নাগরিক সিরাজুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি যাত্রাপুর থানা এলাকায় বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, সিরাজুল ইসলাম ওই তিন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে গুহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তবে তাঁরা কেন গুহাটি যাচ্ছিলেন, সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রকৃত পরিকল্পনা কী ছিল এবং গুহাটির পর তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তিন মহিলার দাবি, কাজের সন্ধানেই তাঁরা ভারতে এসেছেন। কিন্তু তাঁদের ভারতে প্রবেশের পদ্ধতি, সীমান্ত পারাপারের সহযোগিতা এবং পরবর্তী যাত্রাপথ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁদের সঙ্গে থাকা ভারতীয় নাগরিকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে পুরো ঘটনার পিছনে কোনো মানব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে তিন বাংলাদেশি মহিলাকে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা, কিংবা এর পিছনে কোনো সংগঠিত চক্রের ভূমিকা রয়েছে কিনা—তদন্তের মাধ্যমে সেই তথ্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বিমানবন্দর থানার ওসি জানিয়েছেন, আটক চারজনের বিরুদ্ধেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁদের ভারতে প্রবেশের প্রকৃত কারণ, যাত্রাপথ এবং এই ঘটনায় অন্য কারও যোগ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। সীমান্তে বিএসএফের নজরদারির মধ্যেও কীভাবে ওই তিন মহিলা সোনামুড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেন এবং তাঁদের ত্রিপুরা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা কী ছিল—এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



