আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে সাফল্য পেল পুলিশ। দিল্লি, বিহার, রাজস্থান-সহ বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ হওয়া মোট ২৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে শনিবার প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আগরতলা বিমানবন্দর থানার পুলিশের উদ্যোগে এই মোবাইলগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনগুলি হারিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে সেগুলি ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি প্রকৃত মালিকরা। শনিবার তাঁদের থানায় ডেকে এনে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলি হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে নিখোঁজ মোবাইলগুলির অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক কৌশলের সাহায্যে একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মোবাইলগুলির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। এরপর তদন্তের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোনগুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলির মধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইলও রয়েছে। দিল্লি, বিহার, রাজস্থান-সহ একাধিক স্থান থেকে নিখোঁজ হওয়া ফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে সেগুলি উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রিয় মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে অনেক মালিকই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হারিয়ে যাওয়া জিনিস যে আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব, এই ঘটনায় তারই নজির মিলল বলে মনে করছেন তাঁরা। এদিন উদ্ধার হওয়া মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, কোনও মোবাইল দেশের অন্য প্রান্তে চলে গেলেও প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এনসিসি থানার এসডিপিও সুব্রত বর্মন জানান, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রে পুলিশ নিয়মিতভাবে প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ২৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ। তিনি আরও জানান, নাগরিকদের হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তি যাতে তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্য পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুলিশ কাজ করে চলেছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ফলে শুধু অপরাধ দমনে নয়, সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের ক্ষেত্রেও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের এই উদ্যোগ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া ২৮টি মোবাইল প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পুলিশের এই প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের সাফল্যই সামনে এল।



