বন ও পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা বনকর্মী ও বনপ্রেমীদের স্মরণে শুক্রবার সারা দেশে পালিত হল জাতীয় বন শহীদ দিবস। বন সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার কাজে যারা কর্তব্য পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এই বিশেষ দিনে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হয়। রাজ্যেও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় দিনটি। জাতীয় বন শহীদ দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৭৩০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজস্থানের খেজরলি গ্রামে খেজরি গাছ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ৩৬৩ জন মানুষ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অমৃতা দেবী বিষ্ণোই। গাছ কাটতে বাধা দিতে তাঁরা গাছকে জড়িয়ে ধরে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। প্রকৃতি ও গাছপালা রক্ষার জন্য এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ভারতের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় বন শহীদ দিবস পালন করা হয়।
শুক্রবার রাজ্যেও দিনটি পালন করা হয় যথাযথ মর্যাদায়। এদিন শালবাগানস্থিত অক্সিজেন পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বন রক্ষার কাজে জীবন উৎসর্গ করা শহীদ বনকর্মীদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা সহ উপস্থিত অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, রাজ্যের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে বহু বনকর্মী কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও এদিন সম্মানিত করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বন ও বৃক্ষকে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধুমাত্র বন দপ্তরের একার নয়। বন রক্ষা করতে হলে সাধারণ মানুষকেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ বন ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলেই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। গাছ কাটা রোধ থেকে শুরু করে বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে বলেও বার্তা দেন বনমন্ত্রী।
পাশাপাশি বন রক্ষার ক্ষেত্রে বন দপ্তর তার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে থাকবে না বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে জানান অনিমেষ দেববর্মা। বনাঞ্চল সংরক্ষণ, বৃক্ষ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করবে বলে জানান তিনি। একদিকে ইতিহাসের সেই আত্মত্যাগের স্মরণ, অন্যদিকে রাজ্যের শহীদ বনকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা—এই দুইয়ের মধ্য দিয়ে শুক্রবার রাজ্যে পালিত হল জাতীয় বন শহীদ দিবস। বন রক্ষার লড়াইয়ে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তাই উঠে এল এদিনের অনুষ্ঠানে।



