রাজ্যের পরিবহন ও পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। যাত্রী পরিষেবায় স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ করার লক্ষ্যে এবার বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনকে একই প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হলো। একইসঙ্গে পর্যটকদের তথ্য সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে ‘পর্যটন তথ্য কেন্দ্র’।বৃহস্পতিবার রাজ্যের পরিবহন ও পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর হাত ধরে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় অ্যাপভিত্তিক ক্যাব তথা অটো পরিষেবা এবং ‘পর্যটন তথ্য কেন্দ্রের’। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে আগরতলা ও যোগেন্দ্রনগর রেলওয়ে স্টেশনকেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত করা হয়। এর ফলে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কেন্দ্র—মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর, আগরতলা রেলওয়ে স্টেশন এবং যোগেন্দ্রনগর রেলওয়ে স্টেশন—একই সময়ে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার আওতায় এল। যাত্রীদের বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে পৌঁছানোর পর গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সহজে পরিবহন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে রাজ্যের বাইরে থেকে ত্রিপুরায় আসা পর্যটকদের জন্য এই পরিষেবা আরও সুবিধাজনক হতে পারে। বিমানবন্দর বা রেলস্টেশনে নামার পর স্থানীয় পরিবহন খোঁজার ক্ষেত্রে যে ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিষেবার মাধ্যমে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াতে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে এই উদ্যোগে। এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, পুলিশ সুপার-সহ পরিবহন ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে নতুন পরিষেবাগুলির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন পরিষেবার পাশাপাশি বিমানবন্দরে ‘পর্যটন তথ্য কেন্দ্র’ চালু হওয়াকে পর্যটন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ত্রিপুরায় আসা পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটনস্থল, যাতায়াত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্র সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবহন ও পর্যটন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে সাধারণ যাত্রী এবং পর্যটকদের জন্য পরিষেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রী বলেন, পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং পর্যটনে নতুন আকর্ষণ তৈরি করার পাশাপাশি ত্রিপুরাকে আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ পর্যটনস্থল যতই আকর্ষণীয় হোক, সেখানে পৌঁছানোর জন্য সহজ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে পারে। সেই দিক থেকে বিমানবন্দর ও রেলস্টেশন থেকে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন পরিষেবা চালু হওয়া পর্যটন ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনকে অ্যাপভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা এবং পর্যটন তথ্য কেন্দ্র চালুর মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার পরিবহন ও পর্যটন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও এক ধাপ এগোল। আগামী দিনে এই পরিষেবা কতটা কার্যকরভাবে যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধা দিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।



