Tuesday, August 11, 2026
বাড়িখবররাজ্যক্ষুদিরাম বসুর ১১৯তম আত্মবলিদান দিবস পালিত আগরতলায়

ক্ষুদিরাম বসুর ১১৯তম আত্মবলিদান দিবস পালিত আগরতলায়

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আপসহীন ধারার বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস পালিত হলো আগরতলায়। মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ছিল ক্ষুদিরাম বসুর ১১৯তম আত্মবলিদান দিবস। ১৯০৮ সালের এই দিনে বিহারের মুজাফফরপুরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের হাতে ফাঁসির মঞ্চে আত্মবলিদান দেন অমর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। তাঁর আত্মত্যাগ সেই সময় দেশের যুবসমাজের মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে দলে ছাত্র-যুবক স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন।

বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আগরতলা শহীদ ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি রক্ষা কমিটি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের প্রাঙ্গণে ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। দেশাত্মবোধক গান গাইতে গাইতে শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পুনরায় ক্ষুদিরামের মূর্তির সামনে এসে শেষ হয়।

এরপর বীর বিপ্লবীর মর্মর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিতরা। অনুষ্ঠানে গান, কবিতা, আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে ক্ষুদিরাম বসুর জীবন, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং দেশের যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক হরকিশোর ভৌমিক বীর বিপ্লবীর জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। অল্প বয়সেই দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আজও ছাত্র-যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে অন্যায়, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় মানবসভ্যতাকে বিপন্ন করে তুলছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন ক্ষুদিরাম বসুর মতো সাহস, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগের মানসিকতা এবং চরিত্রের দৃঢ়তা।

হরকিশোর ভৌমিকের বক্তব্য, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং আপসহীন ধারার বিপ্লবীদের জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের জানা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষুদিরাম বসুর আত্মত্যাগ শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়, বরং অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা। তাঁর অভিযোগ, দেশের শাসকরা স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাসকে ধীরে ধীরে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বক্তারা ক্ষুদিরাম বসুর আদর্শ ও আত্মত্যাগের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অন্যায়, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উপস্থিতদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও আবেগের পরিবেশ তৈরি হয়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five × one =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য