রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযানে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল ত্রিপুরা পুলিশ। শুধু জেলা পুলিশ নয়, এবার রাজ্য পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চও গাঁজা চাষ নির্মূলে সরাসরি মাঠে নেমেছে। গত বছরের মতো পূর্ণাঙ্গ গাঁজাবাগান ধ্বংসের পরিবর্তে এবছর গাঁজা চাষের একেবারে শুরুতেই, অর্থাৎ নার্সারি পর্যায় থেকেই অভিযান চালিয়ে চারা ধ্বংস করা হচ্ছে। বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত মানিক্যনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে আনুমানিক প্রায় ২ লক্ষ গাঁজার চারা সম্বলিত নার্সারি ধ্বংস করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার ও ধ্বংস করা ওই নার্সারির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। অভিযান চলাকালীন পুলিশ জানিয়ে দেয়, গভীর জঙ্গলে বা দুর্গম এলাকায় গোপনে গাঁজা চাষ করে আইনের চোখ এড়ানোর সুযোগ আর থাকবে না। উপযুক্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গাঁজার নার্সারি ও গাঁজাবাগান চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরও তৎকালীন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধ্যানকর, আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশের উদ্যোগে ব্যাপক গাঁজা ধ্বংস অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময় প্রয়াত ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর বলেছিলেন, পরবর্তী বছরে গাঁজা গাছ বড় হওয়ার আগেই চাষ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এবারের অভিযান সেই কৌশলেরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগামী দিনেও জেলা পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। লক্ষ্য একটাই—গাঁজার চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তোলা। এদিনের অভিযানের পর গাঁজা চাষিদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, এবছর গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে রাজ্যের যেখানেই গাঁজার নার্সারি বা গাঁজা চাষের সন্ধান মিলবে, সেখানেই দ্রুত অভিযান চালিয়ে তা ধ্বংস করা হবে।



