যুব সমাজকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার উপর জোর দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। সোমবার রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডস্থিত শিববাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত “সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ভাবাবেগে পরিচালিত করতে হবে এবং তাদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চেতনা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশের মতো ত্রিপুরাতেও রাজ্যভিত্তিকভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরে “সোমনাথ অমৃত পর্ব” অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ১৯৫১ সালে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের হাত ধরে পুনর্নির্মিত এই মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রিপুরার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব পি কে চক্রবর্তী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী শিববাড়ির শিবমন্দিরে পূজা অর্চনা করেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষকে বিশ্ব আধ্যাত্মিকতার দেশ হিসেবেই চেনে। এই ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, ১০২৬ সালে সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণ চালিয়েছিল। পরে স্বাধীনতার পর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের উদ্যোগে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়, যা ভারতীয় স্বাভিমানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, “সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব” আগামী ২০২৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বছরব্যাপী উদযাপিত হবে। এই কর্মসূচিতে যত বেশি সংখ্যক যুব সমাজকে যুক্ত করা সম্ভব হবে, ততই ভারতীয় সংস্কৃতির ভিত আরও মজবুত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে শিববাড়ি প্রাঙ্গণে শিবের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী, মেয়র ও অন্যান্য অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।



