বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে শুক্রবার এক স্মরণসভা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে তাঁর মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, যুব কংগ্রেস নেতা নীল কমল সাহা এবং মহিলা প্রদেশ কংগ্রেস নেত্রী সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, কবিগুরু শুধু বাংলা সাহিত্যের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নন, তিনি বিশ্ব মানবতার এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবিক চেতনা বর্তমান সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন অধ্যায়কে বিকৃত করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে যেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অতীতে বহু বিশিষ্ট মনীষীর বিরোধী ছিল, যা সম্পূর্ণ অসত্য। জাতীয় সংগীত ও “বন্দেমাতরম” প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রশ্নে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
বিজেপির আদর্শিক অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কবিগুরু আজীবন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং তাঁর সেই দর্শন আজও সমাজের কাছে শিক্ষণীয়। পাশাপাশি রাজ্যে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের আলোকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা বেড়েছে। এর ফলে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ কবিগুরুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



