ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মী মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে কোনও ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কলেজের সভাপতি মলয় পীট। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গার্লস হোস্টেলের কেয়ারটেকার মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহ করে। পরে রাজ্য সরকার জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে সেই তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কলেজের সভাপতি মলয় পীট জানান, তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করেননি। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন কোনও ধরনের যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের জন্ম দিতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে সংযম বজায় রেখেছেন। তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য কলেজ প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
মলয় পীট বলেন, কলেজের কর্মীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যের মতো। মনীষা দাসের মৃত্যু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও শোকাহত করেছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর তিনি নিজে মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাবেন বলেও জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় ৩০০-রও বেশি মহিলা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে, মনীষা দাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।



