রাজধানী আগরতলায় এবার আক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় রক্তাক্ত হলেন তিন সাংবাদিক। ঘটনাটি ঘটেছে শ্যামলী বাজার এলাকায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে। সাংবাদিক চন্দন কুমার দের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তিন সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের মধ্যে। শনিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে শ্যামলী বাজারের ঘটনাস্থলেই রাস্তায় বসে পড়েন সাংবাদিকরা। আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকারের নেতৃত্বে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা পথ অবরোধে শামিল হন। তাঁদের দাবি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
সাংবাদিকদের বক্তব্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিংবা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজধানী শহরে যদি সাংবাদিকরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তাঁদের পক্ষে নির্ভয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিন সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এনসিসি থানার পুলিশ এবং সদর মহকুমা পুলিশের এসডিপিও। পরে পুলিশ আধিকারিকরা অবরোধকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসের পর সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন সাংবাদিকরা। তবে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই হামলার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। এখন দেখার, সাংবাদিকদের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারে কি না।



