রাজধানী আগরতলার পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যাধুনিক পার্কিং জোন। তবে পিআরএম সেন্ট্রাল পয়েন্ট পার্কিং জোনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলছেন পথচলতি সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ব্যস্ততম এই সড়কের পাশে নির্মাণকাজ চললেও পথচারী ও যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিনই একপ্রকার ঝুঁকি নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণস্থল থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা সামগ্রী নিচে পড়ছে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আর সেই আশঙ্কার মধ্যেই বুধবার দুপুরে ঘটে গেল দুর্ঘটনা। নির্মাণকাজের পাশ দিয়ে স্কুটিতে করে মাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় বহুতল ভবনে ওয়ারিংয়ের কাজ চলাকালীন উপর থেকে আগুনের ছিটকে আসা অংশ তাঁদের গায়ে পড়ে। এতে মা ও ছেলে অল্পবিস্তর আহত হন। মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পথচলতি মানুষজনও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। উপর থেকে নির্মাণসামগ্রী কিংবা কাজের সময় ছিটকে আসা কোনও বস্তু পথচারীদের গায়ে পড়লে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। এদিনের ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার কর্মীরা। তাঁরা আহত মা ও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে গোটা ঘটনা নিয়ে নির্মাণকারী সংস্থার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে বুধবারের এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানচালক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যস্ত সড়কের পাশে নির্মাণকাজ চলায় পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পথচারীদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নইলে ছোটখাটো ঘটনা যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।



