মানবসেবার মহান আদর্শকে সামনে রেখে আগরতলার ধলেশ্বরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হলো এক মহতী রক্তদান শিবির। স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক শিকাগো ধর্ম সম্মেলনের ভাষণের স্মৃতিকে সামনে রেখে শনিবার এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘রক্তদান করুন, জীবন বাঁচান’—এই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত শিবিরের মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণ ও পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এদিনের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি তথা উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী অমাত্মানন্দ মহারাজ-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের স্মরণে রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করায় উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের মানবসেবার দর্শন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করার কথা বলেছেন। মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার যে আদর্শ স্বামীজি রেখে গেছেন, তা আজও সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করে মানুষের জন্য কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের বিভিন্ন বাণীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণের চিন্তা এবং অন্যের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করাই হওয়া উচিত জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু সমাজের একটি অংশের মধ্যে এখনও অন্যের ক্ষতি করার মানসিকতা দেখা যায়। এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তাভাবনাকে তিনি অজ্ঞতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই অজ্ঞতার অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষার অভাবের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও চিন্তাভাবনাকে সঠিকভাবে জানা এবং তরুণ প্রজন্মের সামনে তাঁর বাণী তুলে ধরা গেলে সমাজের বিভিন্ন ধরনের বিচ্যুতি অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অবস্থান রয়েছে—এই উপলব্ধি থেকেই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বোধ তৈরি করতে হবে। সমাজের প্রত্যেক মানুষকে সমানভাবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে সামাজিক বিভাজন ও বিভিন্ন বিচ্যুতি থেকে অনেকটাই বেরিয়ে আসা সম্ভব। তরুণ সমাজের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্ম যদি স্বামীজির জীবন, দর্শন ও মানবসেবার আদর্শকে উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিন রক্তদান শিবিরের প্রসঙ্গেও মানবসেবার বাস্তব দৃষ্টান্ত হিসেবে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তদানের মাধ্যমে একজন মানুষ অন্য একজনের জীবন রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই মানবকল্যাণের এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশনের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানবকল্যাণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও রামকৃষ্ণ মিশন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে মিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের স্মৃতিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই রক্তদান শিবির তাই শুধুমাত্র একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং তাঁর মানবসেবা ও মানবকল্যাণের আদর্শকে বাস্তব জীবনে ধারণ করারও একটি বার্তা বহন করে। রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানই উঠে আসে এদিনের কর্মসূচিতে।



