রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজার। শহর ও শহরতলির পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই এই প্রাচীন বাজারে ভিড় জমান হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী এই বাজার। বাজারের পরিকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতাদের। এবার সেই সমস্যাগুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সমাধানের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শনিবার আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। বাজার পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকে বাজারের বর্তমান সমস্যা, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন বিষয় শোনেন তিনি। দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি কীভাবে ধাপে ধাপে সমাধান করা যায়, সেই বিষয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাচীন এই বাজারকে আগামী দিনে আরও আধুনিক ও উন্নত বাজার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজারের ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মহারাজগঞ্জ বাজারের একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রসঙ্গও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ীরা কিছু জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সেই ছেড়ে দেওয়া জমি পুনরায় ব্যবহারের দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের এই বিষয়টি সামনে আসার পরই গোটা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এদিন বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন করে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় রুম তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেজন্য আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বাজারের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মহারাজগঞ্জ বাজার শুধু আগরতলা শহরের একটি বাজার নয়, রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনের আনাগোনা হওয়ায় বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলির সমাধান করা গেলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাচীন এই বাজারকে আধুনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর মহারাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের।



