চাকরির দাবিতে ফের রাজপথে নামলেন ২০২৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চাকরিপ্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমশ বাড়ছে তাঁদের মধ্যে। একদিকে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে যোগ্যতা অর্জন করেও নিয়োগের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন টেট উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে ফের আন্দোলনে সামিল হলেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাঁদের নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক টালবাহানা চলছে। নিয়োগের দাবিতে ইতিমধ্যেই একাধিকবার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তাঁরা। কখনও শিক্ষা ভবনের সামনে, আবার কখনও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আন্দোলনে সামিল হতে গিয়ে গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁদের অনেকেরই বয়সসীমা অতিক্রম করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হচ্ছে, ততই অনিশ্চয়তা বাড়ছে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। দীর্ঘদিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অপেক্ষা করার পরও যদি বয়সের কারণে চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে—এই প্রশ্নও তুলছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই ফের সংগঠিত আন্দোলনে নামলেন ২০২৪ সালের টেট উত্তীর্ণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি, আর কোনও দীর্ঘসূত্রিতা না করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এদিন চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে টিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে গণডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সেখানে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চাকরিপ্রার্থীদের মেধাতালিকা দ্রুত প্রকাশ করা, নতুন করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে অবশিষ্ট যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং সমস্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন সুযোগ বা অতিরিক্ত সুবিধা চাইছেন না। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই তাঁদের মূল দাবি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকায় আর সময় নষ্ট করতে চাইছেন না তাঁরা।
একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে যখন শিক্ষক স্বল্পতার অভিযোগ রয়েছে, তখন যোগ্যতা অর্জনকারী এত সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের বাইরে রেখে দেওয়ার কারণ কী? তাঁদের দাবি, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করা হলে একদিকে যেমন বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংকটও অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তাঁদের আন্দোলন থামবে না। বিশেষ করে বয়স উত্তীর্ণ হওয়ার পথে থাকা প্রার্থীদের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি তাঁদের। এদিন গণডেপুটেশনের পর আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবিগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পথে হাঁটবেন তাঁরা। ফলে ২০২৪ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ ঘিরে ফের নতুন করে চাপ তৈরি হল প্রশাসনের উপর। এখন দেখার, আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



