সাধের স্মার্ট সিটি আগরতলায় যেন কিছুতেই থামছে না চোরের দৌরাত্ম্য। প্রায় প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চুরির ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্নের মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। বাড়িঘর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেবালয়—কোনও জায়গাই যেন রেহাই পাচ্ছে না চোরচক্রের হাত থেকে। পুলিশের নজরদারিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে। চুরির ঘটনায় অনেক পরিবার ও ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একাংশের মতে, নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কিছু যুবক চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে চুরির ঘটনা শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই করছে না, এর প্রভাব পড়ছে শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরও। দিনের পর দিন চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি যথেষ্ট কার্যকর? এরই মধ্যে রাজধানী আগরতলার জনবহুল ধলেশ্বর ১২ নম্বর রোড এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, নির্জনতার সুযোগ নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে চোর। এরপর ঘর থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। দুঃসাহসিক এই চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে চুরির অভিযোগ সামনে এলেই তদন্তে সক্রিয় হচ্ছে পুলিশ। সম্প্রতি আমতলী কালী মন্দিরেও চোরের দল হানা দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে আমতলী থানার পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে অবশেষে মন্দিরে চুরির ঘটনায় এক অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার আটক ব্যক্তিকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হয়। চুরি-কাণ্ডের তদন্ত এবং পুলিশের সাফল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত জানান আমতলী থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি। একদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে, অন্যদিকে একের পর এক ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এখন প্রশ্ন একটাই—চোরচক্রের এই দৌরাত্ম্য কবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, আর কবে স্বস্তি ফিরবে আগরতলাবাসীর মনে?



