Sunday, September 6, 2026
বাড়িখবররাজ্যরিহ্যাব সেন্টারে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, কর্ণধারসহ ৮ জন গ্রেপ্তার**

রিহ্যাব সেন্টারে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, কর্ণধারসহ ৮ জন গ্রেপ্তার**

নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকারি সহায়তায় আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে একাধিক বেসরকারি নেশামুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। তবে এবার এমনই একটি রিহ্যাব সেন্টারে এক ব্যক্তিকে মারধরের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে রিহ্যাব সেন্টারের কর্ণধারসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আগরতলা এনসিসি থানার পুলিশ। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তার বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্বপ্না ফাউন্ডেশন রিহ্যাব সেন্টারের কর্ণধার শুভম বিশ্বাস, সেন্টারের কর্মী এবং সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি।

এনসিসি থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, গত ১৬ আগস্ট সাহানা দাস ভট্টাচারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট তাঁর স্বামী তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্যকে স্বপ্না ফাউন্ডেশন রিহ্যাব সেন্টারে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, স্বামীকে চিকিৎসা করানো, ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাগুলিকে সামনে রেখেই এনসিসি থানায় মামলা দায়ের করেন মৃতের স্ত্রী।

অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে এনসিসি থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতিতে স্বপ্না ফাউন্ডেশন রিহ্যাব সেন্টারের কর্ণধার, অফিসের কর্মী এবং রিহ্যাব সেন্টারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি। এরপরই মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে মৃত তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্যের শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেই চিহ্নের উল্লেখ চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টেও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী হয়েছিল, কার কী ভূমিকা ছিল এবং মারধরের কারণ কী—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পাশাপাশি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তির সময় পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা নেওয়া এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নেশামুক্তি ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি কেন্দ্রে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? সেখানে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং তাদের সঙ্গে আচরণবিধি নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকেই পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শনিবার আদালতে পেশ করে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, রিহ্যাব সেন্টারে ওই ব্যক্তিকে কেন মারধর করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনসিসি থানার পুলিশ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

five − five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য