ত্রিপুরা পুলিশের মহা নির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধ্যানকরের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে গোটা রাজ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সোমবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্তব্যরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্ত। সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতোই পুলিশ সদর দপ্তরে নিজের দায়িত্ব পালনে যোগ দেন ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর। কিছু সময় পরই নিজের দপ্তরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার সময় তার শরীরে কোনও প্রাণচিহ্ন ছিল না। চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর ইঙ্গিত মিললেও, পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে ঘটনাটি রহস্যজনক বলে জানা গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ সদর দপ্তর ও জিবি হাসপাতালে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা এবং মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। উল্লেখ্য, অনুরাগ ধ্যানকর ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি রাজ্যের পুলিশ মহা নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং জাতিসংঘের কসোভো মিশনেও দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর অবদান এবং পেশাদারিত্বের জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুধু পুলিশ প্রশাসনের নয়, গোটা রাজ্যের কাছেই এক বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।



