Thursday, March 19, 2026
বাড়িখবররাজ্যরামপদ জমাতিয়া রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত

রামপদ জমাতিয়া রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত

রামপদ জমাতিয়া রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বোচ্চ মর্যাদা রেখে সভার কাজ পরিচালনা করবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

আজ সকালে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে অধ্যক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অধ্যক্ষ পদে রামপদ জমাতিয়ার সমর্থনে তিনটি প্রস্তাব বিধানসভার সচিবালয়ে জমা পড়ে। প্রথম প্রস্তাবটি আনেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এবং তা সমর্থন করেন বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি আনেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা এবং তা সমর্থন করেন বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা। তৃতীয় প্রস্তাবটি আনেন সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। তা সমর্থন করেন বিধানসভায় সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়। অধ্যক্ষ পদের জন্য আর কারও নাম প্রস্তাব না হওয়ায় ৩০-বাগমা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধানসভায় সরকার পক্ষের মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা এবং বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা রামপদ জমাতিয়াকে অধ্যক্ষের চেয়ার পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যান। সে সময় সভার কাজ পরিচালনা করছিলেন উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল। তিনি অধ্যক্ষকে স্বাগত জানান।

নতুন অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা সমস্ত রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন। দু’বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শ্রীজমাতিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। অধ্যক্ষের চেয়ারের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তিনি সভার কাজ পরিচালনা করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী রামপদ জমাতিয়াকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের কন্ঠস্বরকে আরও সমৃদ্ধ, শক্তিশালী এবং জনমুখী করে তোলার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের আসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদের কন্ঠস্বর সভায় যথাযথভাবে উচ্চারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিরোধীদের কথা বলার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। বিধানসভার মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া অধ্যক্ষকে স্বাগত জানিয়ে সবার গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখার ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা অধ্যক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বিধানসভার সদস্যদের সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখে অধ্যক্ষ সভার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, সুধন্বা দেববর্মার পর এই প্রথম জনজাতি সম্প্রদায়ের কেউ ত্রিপুরা বিধানসভায় অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হলেন। সভার কাজ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে শ্রীজমাতিয়া অত্যন্ত সফল হবেন বলে বিধায়ক শ্রীদেববর্মা আশা প্রকাশ করেছেন। বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করায় রামপ্রসাদ পালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ করে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করায় নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অধ্যক্ষের আসন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সভার কাজ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিধানসভার সমস্ত সদস্য সদস্যাকে সমদৃষ্টিতে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে সভায় গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণে বিধানসভার অধ্যক্ষের পদটি খালি হয়ে পড়েছিলো। উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল এতোদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে বিধানসভার কাজ পরিচালনা করছিলেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

18 − eighteen =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য