প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বন ও বন্যপ্রাণী উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। তাই পৃথিবীর জৈব বৈচিত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন ও বন্যপ্রাণী উভয়কেই আমাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। আজ প্রজ্ঞাভবনের ১নং হলে বিশ্ব প্রাণী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘হিউম্যান অ্যানিমেল ইনটারেকশন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা একথা বলেন। তিনি বলেন, বন ও বন্যপ্রাণীর ধ্বংস মানে পরিবেশ সর্বোপরি মানবজাতির অস্তিত্বের বিপর্যয়। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই বন্যপ্রাণী এবং তাদের আবাসস্থল বনকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল যাতে ধ্বংস না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বনকে বন্যপ্রাণীর বাসযোগ্য রাখতে হবে যাতে তারা সেখানে নিজেদের মতো করে বসবাস করতে পারে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বনমন্ত্রী বলেন, এই ধরণের অনুষ্ঠান করা হলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র সম্পর্কে ছাত্রজীবন থেকেই সচেতন হতে পারবে।
বিশেষ অতিথির ভাষণে রাজ্যের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক রবীন্দ্র কুমার শ্যামল বলেন, বনের মধ্যে যেসব ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে সেগুলিকে যতদূর সম্ভব রক্ষা করতে হবে। বনের মধ্যে যেসমস্ত পাখি বাসা করে থাকে সেগুলিকে রক্ষা করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এই পাখিরা নানা গাছের বীজ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছড়াতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা নিয়ে থাকে।
কর্মশালায় এইচএআই প্রশমনে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন আরণ্যক ফাউন্ডেশানের বিভূতিপ্রসাদ লাহোকর। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী ড. পরাগ নিগম, বন দপ্তরের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক ড. এ প্রগাথিস, ডিএফও অশোক কুমার এবং অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস আধিকারিক এ কে গুপ্তা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার চিফ ওয়াইন্ড লাইফ ওয়ার্ডেন চৈতন্য মূর্তি। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন সি এফ ওয়াইল্ড লাইফ আর অরুণ কুমার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পি সি সি এফ পি এল আগরওয়াল।



