বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্য সরকার ত্রিপুরায় তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রকেও দ্রুত উন্নত করার প্রয়াস নিয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ত্রিপুরাকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের তথ্য প্রযুক্তি হাবে পরিণত করতে চায় রাজ্য সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টার স্থাপনের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। আজ চানমারিতে ভারতী এয়ারটেল সংস্থার উদ্যোগে এয়ারটেল ডাটা সেন্টার নির্মাণের ভূমিপূজা ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা বেস্ট পারফরমার রাজ্য থেকে বেস্ট মডেল রাজ্য হিসেবে গড়ে উঠার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই ডাটা সেন্টারটি তৈরি হলে রাজ্যের বেকার যুবক যুবতী সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এই উদ্যোগ রাজ্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ডাটা সেন্টারটি গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার এয়ারটেল সংস্থাকে ১ একর জায়গা দিয়েছে। ডাটা সেন্টারটি গড়ে উঠলে রাজ্যের আই.টি. সেক্টর আরও শক্তিশালী হবে। শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ত্রিপুরাবাসীগণ বেশিরভাগই আই.টি. সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত। এক্ষেত্রে তারাও ত্রিপুরায় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। ত্রিপুরায় তথ্য প্রযুক্তি শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ থাকায় এয়ারটেল ছাড়াও মেসার্স পি.ভি.এম. ইনভেনসিস প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স পোলো টাওয়ার্স গ্রুপ এবং মেসার্স সিটি.আর.এল.এস.-এর মতো একাধিক বিনিয়োগকারী সংস্থা রাজ্যে ডাটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার বাড়াতে বিশেষ করে জোর দিয়েছেন। আমাদের দেশের সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ডাটা স্টোরেজ ক্ষমতা ৮ গিগাওয়াট পর্যন্ত বাড়াতে রাজ্যের এই ডাটা সেন্টারটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ও অর্থ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় বলেন, রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করে চলেছে। রাজ্যে আইটি, সেক্টরের উন্নয়নে অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আধুনিক ও উন্নত ত্রিপুরা গড়ার ক্ষেত্রে এই ডাটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ডাটা সেন্টারটি তৈরি হলে আই.টি. সেক্টরে প্রায় ২০০ জন বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারতী এয়ারটেলের সি.ই.ও. বালাজি আর। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের অধিকর্তা সুপ্রকাশ জমাতিয়া। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাটা সেন্টার স্থাপন ও এর কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত হন।



