খোয়াই প্রতিনিধি ১৩ই আগস্ট….খোয়াই রামচন্দ্র ঘাট মন্ডলের উদ্যোগে রবিবার বিকেল ৩টার রামচন্দ্র ঘাট কমিউনিটি হল ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বিভাজন বিভীষিকা নামক অনুষ্ঠান পালিত হয়।উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।এছাড়া অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী,খোয়াই জেলার সাধারণ সম্পাদক সমির কুমার দাস ও জয়ন্ত সাহা,রামচন্দ্র ঘাট মণ্ডলের সভাপতি সঞ্জীব দেববর্মা,বিজেপি দলের এস সি মোর্চার সহ-সভাপতি প্রমোদ দাস ,সমাজ সেবী ও শিক্ষিকা রূপালী দাস,শিক্ষক গোপেন্দ্র দেবনাথ সহ আরো অনেকে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী বলেন ১৯৪৭ সালে অখন্ড ভারতকে ভেঙ্গে দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি করা হয় ভারত ও পাকিস্তান,আর এই বিভাজনের ফলে ওই দেশের অনেক মানুষ এপার ওপার হতে পারেনি বিভাজনের কারণে।এই বিভাজনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাড়ি ছাড়া অর্থাৎ রিফিউজি হয়ে থাকতে হয়েছিল।আর এতে করে খুন হতে হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষকে ,হারাতে হয়েছিল মা-বোনদের ইজ্জত ও।এই দেশ বিভাজনের ফলে হত্যা লীলার যে বিভীষিকা সৃষ্টি হয়েছিল তা বর্ণনা করার মত নয়।এরপর ১৯৭১ সালে মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর যুদ্ধ লেগে যায় ।তাতে করে পশ্চিম পাকিস্তানের হাত থেকে পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশ আছড়া হয়ে যায়।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ও পাকিস্তানের রাজাকার বাহিনীরা বাংলাদেশেরএবং ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদেরকে এবং নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা এবং মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে গণহারে হত্যা করে ।এর বিভীষিকা আজও অনেক মানুষ ভুলতে পারিনি।কেন এই বিভাজন হয়েছিল পাকিস্তানকে মুসলিম রাষ্ট্র বানানোর জন্য! তাই হয়েছে।যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে কেন আজও ভারতবর্ষে পাকিস্তান থেকে বেশি মুসলিম লোকেরা ভারতে বসবাস করছে ।তাহলে এই বিভাজনের কি মানে ছিল কেনই বা এই হারে গণহত্যা হয়েছিল তৎকালীন সময়ে একটি রাজনৈতিক দলের কারণে এর উত্তর কি আছে তাদের কাছে।তাই ভারতবর্ষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এই দেশে সমস্ত জাতির বসবাস এবং আমরা সবাই মিলে এক জোট হয়ে ভারতকে আরও শক্তিশালী গড়ার লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে দাঙ্গাবাজ ও দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করব শক্ত হাতে বলেন বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী। এরপর রামচন্দ্র ঘাট এলাকার অনুষ্ঠান সেরে উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা ও বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী চলে আসেন খোয়াই লালছড়া স্থিত বিজিপি জেলা কার্যালয়ে।সেখানে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা হাত ধরে জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন ।উক্ত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দাস, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশীষ নাথ শর্মা সহ অন্যান্য কর্মকর্তা গন।বিজেপি জেলা কার্যাল পতাকা বিক্রয় কেন্দ্রেটি উদ্বোধনের পর বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন দেশের জনগণকে দেশের প্রতি আনুগত্য থাকা এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সহ দেশের সমস্ত কাজে দেশের সাথে থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঐকান্ত চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে করে দেশের জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাতে স্মরণ করেন এবং দেশের প্রতি নিষ্ঠা থাকেন সবাই।



