কল্যাণপুর প্রতিনিধি:
উপর্যপরি বর্ষণের জেরে কল্যাণপুর থানাধীন ঘিলাতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুলিশপাড়া গ্রামে নিজ বসতঘরের মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল এক মহিলার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় অন্যান্য দিনের মতো গতকালও মুরারি সরকারের স্ত্রী সাবিত্রী সরকার (৫৫) উনার নিজের জীর্ণ প্রায় মাটির দেওয়াল দ্বারা নির্মিত ঘরে রাত্রি যাপন করছিলেন। গতকাল রাত প্রায় দশটা থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির জেরে একটা সময় রাত আনুমানিক দুই টার কিছু পরে সংশ্লিষ্ট বসত ঘরটি ধ্বসে পড়লে শ্রীমতি সাবিত্রী সরকার মাটির নিচে চাপা পড়ে যান। প্রচন্ড বৃষ্টির জেরে অন্য ঘরে থাকা পরিবারের অন্যরা বিষয়টি প্রথম অবস্থায় আঁচ করতে পারেনি। ঘটনা ঘটার প্রায় ঘন্টা দুয়েক বা আরো বেশি সময় পড়ে পরিবারের লোকজনেরা বিষয়টা সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আহত শ্রীমতি সরকারকে নিকটবর্তী কল্যাণপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য শ্রীমতি সরকার এলাকায় দিনমজুরি সহ অল্পবিস্তর কৃষি কাজ করতেন, মৃত্যু কালে ওনার স্বামী, এক পুত্র সহ তিন কন্যা রয়েছে।
এখানে এই মৃত্যুর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃতার বাড়িতে ছুটে গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, ব্লকের চেয়ারম্যান সোমেন গোপ, মন্ডল সভাপতি জীবন দেবনাথ, ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব পাল সহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী শোকেসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে সর্বতোভাবে পরিবারটির পাশে থাকার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে প্রথম অবস্থায় চিকিৎসক ময়না তদন্ত ছাড়া মৃতদেহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন অজ্ঞাত কারণে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিধায়ক এর দাব্রা নিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের খরিৎ কর্মা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সম্বিত মেরে পরবর্তী সময়ে পুনরায় মৃতদেহকে বাড়ি থেকে এনে ময়নাতদন্ত করা হয়। গোটা বিষয় নিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে গেলে আমতা আমতা করে দায়িত্ব পালনে যে ত্রুটি হয়েছে সে বিষয়টা স্বীকার করে নেন এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ময়না তদন্ত ছাড়া কোন কারনে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক পরিজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
একই সাথে এই মাটি চাপায় পড়ে তিন তিনটে গৃহপালিত ছাগলও মারা যায়।



