তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধিঃ—
শহীদ কমরেড তপন চক্রবর্তীর শহীদানের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বাম যুব সংগঠন ডি.ওয়াই.এফ.আই এবং টি.ওয়াই.এফ-এর যৌথ উদ্যোগে রবিবার তেলিয়ামুড়া’তে অনুষ্ঠিত হলো যুব সমাবেশ। এদিনের এই সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি’কে পরাস্ত করতে, শিক্ষা ও কাজের দাবিতে লড়াই তীব্র করার আহ্বান উঠে।
এদিনের এই যুব সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সি.পি.আই.এম রাজ্য সম্পাদক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জীতেন চৌধুরী, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সংগঠনের রাজ্য কমিটির সম্পাদক তথা বাম নেতা নবারুন দেব, খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস, প্রাক্তন বিধায়ক তথা বাম রাজ্য নেতা পবিত্র কর, সি.পি.আই.এম তেলিয়ামুড়া মহকুমা কমিটির সম্পাদক সুভাষ নাথ সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য থাকে ,, ২০০০ সালের ৩১শে আগষ্ট প্রয়াতঃ তপন চক্রবর্তী উনার সহকর্মীদের নিয়ে কল্যাণপুর প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বাগান বাজারের শান্তিনগর এলাকা থেকে শান্তি সভা করে ফিরে আসার পথে খোয়াই নদীর খেয়া ঘাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন বাম যুব নেতা তপন চক্রবর্তী। তারপর থেকেই প্রতিবছর ৩১শে আগস্ট এই দিনে বাম যুব সংগঠনের উদ্যোগে তপন চক্রবর্তীর শহীদান দিবস পালন করে আসছে। প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও সি.পি আই.এম তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং তপন চক্রবর্তীর শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক ও মাল্যদান করেন নেতৃত্বরা। এবং এক লাল ঝান্ডার দীপ্ত মিছিল ত্রিশাবাড়ি রেলস্টেশন থেকে সভাস্থলে এসে মিলিত হয় সকলে।
এদিনের এই জনসভায় উপস্থিত নেতৃত্বরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে,, তৎকালীন সময়ে জাতি ও উপজাতির মধ্যে জাতিদাঙ্গা সৃষ্টি হয়েছিল।সে সময় জাতি ও উপজাতির মৈত্রীকে সুদৃঢ় করতে কল্যাণপুরের শান্তিনগর থেকে শান্তি সভা শেষ করে ফেরার পথে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয় তপন চক্রবর্তী। সেদিন থেকেই গোটা রাজ্যে নিহত যুবনেতা তপন চক্রবর্তীর শহীদান দিবস পালন করা হয়ে আসছে বলে জানান। তাছাড়া রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের এবং শাসক শরিক দলের তীব্র সমালোচনায় মুখর হন উপস্থিত বাম নেতৃত্ব’রা।