Friday, November 6, 2026
বাড়িখবররাজ্য৫১টি ওয়ার্ডেই বিজেপির প্রার্থী, বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা শাসক দলের; উপস্থিত...

৫১টি ওয়ার্ডেই বিজেপির প্রার্থী, বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা শাসক দলের; উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

আগামী ২৭ নভেম্বর রাজ্যের ২১টি পুর ও নগর সংস্থায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নির্বাচন। শুক্রবার নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া। শেষ দিনে আগরতলা পৌর নিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সুসজ্জিত মিছিলের মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। আগরতলা পৌর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। শুক্রবার সবকটি ওয়ার্ডের মনোনীত প্রার্থীরা একযোগে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদিন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বিজেপির উদ্যোগে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। দলীয় পতাকা ও স্লোগানে মুখরিত মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে পৌঁছায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা। এই মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, দলের রাজ্য প্রভারী মৃগাঙ্ক দেও বর্মন, আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার-সহ দলের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রার্থীদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি ছিল এদিনের কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।

মিছিলে অংশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, বিজেপি শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যায় না, বরং সারা বছরই জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত থাকে। সমাজের অন্তিম স্তরে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে কাজ করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার ও দলীয় সংগঠন। তাঁর দাবি, বিজেপি বছরের ৩৬৫ দিনই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। সেই জনসংযোগ ও উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতেই আগরতলা-সহ রাজ্যের অন্যান্য পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনে দল ভালো ফল করবে বলে তিনি আশাবাদী। বিরোধী দলগুলিকে নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী শিবিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধীনে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং দলের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে শহর ও গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সামনে রেখেই ভোটারদের কাছে যাবে বিজেপি। সব মিলিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে আগরতলা শহরে বড় মিছিলের মধ্য দিয়ে নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক উপস্থিতি তুলে ধরল বিজেপি। এখন মনোনয়ন যাচাই ও প্রত্যাহার পর্বের পর শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারের পরবর্তী পর্যায়। ২৭ নভেম্বরের ভোটে ৫১টি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থীরা কীভাবে নিজেদের প্রচার সাজান এবং ভোটারদের সামনে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

6 + 4 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য