দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে আগরতলা পৌর নিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশেষ করে আগরতলা পৌর নিগমের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে দলীয় নেতৃত্ব। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এক ব্যক্তি এক পদ নীতির কথা মাথায় রেখে বর্তমান মেয়র দীপক মজুমদারকে প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়নি। পাশাপাশি একাধিক ওয়ার্ডে পুরনো মুখের পরিবর্তে নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও সংগঠিত করতে বৃহস্পতিবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আগরতলা পৌর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা ও সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রদেশ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বর্তমান মেয়র দীপক মজুমদার, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভারী মৃগাঙ্ক দেও বর্মন, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কার্যকর্তারা।
বৈঠকে মূলত নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, প্রচারের রূপরেখা তৈরি এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে কীভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় আরও সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার নির্দেশনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলা পৌর নিগমের নির্বাচনে বিজেপির মনোনীত সব প্রার্থীকে একত্রিত করেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে নির্বাচনী লড়াই পরিচালনা করা হবে এবং কোন কোন বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মানুষের সমর্থন পেতে প্রত্যেক প্রার্থীকে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্য সরকার এবং আগরতলা শহরের উন্নয়নে যে সমস্ত কাজ করেছে, সেগুলিই নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হবে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবার খতিয়ান ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সরকার কী কী উদ্যোগ নিয়েছে, সেসব বিষয়ও প্রচারে তুলে ধরতে হবে প্রার্থীদের।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, উন্নয়নের নিরিখেই আগরতলা পৌর নিগমের সবকটি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে শুধু জয়লাভ করাই নয়, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানোই দলের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এবার নির্বাচনী ময়দানে পূর্ণমাত্রায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে বড় মিছিলের পরিকল্পনার পাশাপাশি বৃহস্পতিবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রচারের প্রাথমিক রণকৌশলও চূড়ান্ত করার চেষ্টা করল প্রদেশ নেতৃত্ব। এখন দেখার, নতুন ও পুরনো প্রার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই নির্বাচনী প্রস্তুতি ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে।



