Tuesday, November 3, 2026
বাড়িখবররাজ্যআশাবাড়িতে বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৮, কঠোর পদক্ষেপের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আশাবাড়িতে বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৮, কঠোর পদক্ষেপের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সিপাহিজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশের অভিযানে এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ কিংবা হিংসাত্মক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বিবাদ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ, বচসার এক পর্যায়ে বিএসএফের এক জওয়ান লাঠি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হেফজুর রহমানকে আঘাত করেন। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বক্সনগর-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার খবর পেয়ে রহিমপুর সীমান্ত চৌকি থেকে অতিরিক্ত জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার। অভিযোগ, সেখানে উত্তেজিত জনতার একাংশ তাঁদের উপর হামলা চালায়। বিএসএফের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত বিএসএফ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সংঘর্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার-সহ মোট চারজন বিএসএফ কর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বক্সনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনাকে বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশবিরোধী মানসিকতাসম্পন্ন একদল সমাজদ্রোহী দুষ্কৃতী এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, এই ঘটনায় চিহ্নিত ১৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরে এসেছে। তবে কী পরিস্থিতিতে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া আটজনকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

3 × 2 =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য