আসন্ন পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে ক্রমশ বাড়ছে তৎপরতা। আগামী ২৭ নভেম্বর আগরতলা পৌরনিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা ও নগর পঞ্চায়েতে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে চলছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, অন্যদিকে মনোনয়ন পর্ব শেষ করেই প্রচারে নেমে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে লড়াই করার কথা জানিয়েছে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই আগরতলা পৌরনিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬টি ওয়ার্ডে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই ওই ওয়ার্ডগুলিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন প্রার্থীরা। সোমবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাম প্রার্থীরা। মনোনয়ন জমার পর এবার সরাসরি জনসংযোগ ও ভোট প্রচারে নেমেছে বামফ্রন্ট। মঙ্গলবার আগরতলা পৌরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিবনগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার চালান সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর ও আইনজীবী উমা চন্দ। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে যান এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিনের প্রচার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম সদর বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক অমল চক্রবর্তী-সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রচারে অংশ নিয়ে উমা চন্দ এবং দলীয় নেতৃত্ব রাজ্য ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়েও ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। প্রচার শেষে দলীয় নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
এদিনের কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম সদর বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক অমল চক্রবর্তী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী প্রার্থীদের মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিচার করে ভোট দেবেন। তাঁর বক্তব্য, ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বনমালীপুর এলাকায় একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এলাকার মানুষ নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন এবং সেগুলির সমাধানে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। অমল চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, একসময় যাঁদের তেমন সম্পত্তি ছিল না, তাঁদের কারও কারও এখন বহুতল বাড়ি তৈরি হয়েছে। মণ্ডল স্তরের নেতা থেকে শুরু করে কাউন্সিলরদের সম্পত্তি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধেই মানুষ আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সব মিলিয়ে ২৭ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে আগরতলা পৌরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার কর্মসূচি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। শিবনগরে উমা চন্দের বাড়ি বাড়ি প্রচারের মধ্য দিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডেও নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে।



