রাজ্যের পুরনিগম, পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের পক্ষ থেকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ এবং ২ ডিসেম্বর হবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা। নির্বাচনের দিনক্ষণ সামনে আসতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে প্রচার ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত শাসক বিজেপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিরোধী সিপিআইএমের তরফে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রার্থীদের নাম সামনে এনে মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আগরতলা পুরনিগমের ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষা না করেই জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমে পড়েছে সিপিআইএম।
রবিবার সরকারি ছুটির দিনেও আগরতলা পুরনিগমের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর বুথ এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে দেখা যায় সিপিআইএমের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। দলের যোগেন্দ্রনগর অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচার চলাকালীন দলীয় নেতৃত্ব বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার নাগরিক পরিষেবা, দৈনন্দিন সমস্যা এবং বিভিন্ন অভাব-অভিযোগের বিষয়েও বাসিন্দাদের কাছ থেকে মতামত ও তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা। আসন্ন পুরনিগম নির্বাচনে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান নেতৃত্ব। এই প্রচার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম যোগেন্দ্রনগর অঞ্চল কমিটির সম্পাদিকা নীলাঞ্জনা রায়, দলের ডুকলি মহকুমা কমিটির সদস্য বাবুল দেবনাথ ও পিন্টু মজুমদার, প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রবোধ দাস, শ্যামল কর্মকার-সহ অন্যান্য দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর এখন প্রার্থী বাছাই, মনোনয়ন জমা এবং প্রচার—তিনটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততা বাড়ছে। আগরতলা পুরনিগমের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিআইএমের এই বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি জনসংযোগকেও নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে দলটি।



