Sunday, November 1, 2026
বাড়িখবররাজ্যমাতৃভাষার অধিকার রক্ষার বার্তায় আগরতলায় মানভূম দিবস পালন, বরাকের বাঙালিদের মুক্তির দাবিতে...

মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার বার্তায় আগরতলায় মানভূম দিবস পালন, বরাকের বাঙালিদের মুক্তির দাবিতে সরব আমরা বাঙালি

মাতৃভাষার মর্যাদা ও ভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রামে আত্মত্যাগী শহিদদের স্মরণ করে আগরতলায় পালিত হলো মানভূম দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও এই দিনটিকে বিশেষ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করল আমরা বাঙালি দল। তবে এবারের কর্মসূচিতে মানভূম ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বরাকের বাঙালিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও তুলে ধরেন দলের নেতাকর্মীরা। রবিবার আগরতলার শিবনগরস্থিত আমরা বাঙালি দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত হয় এই কর্মসূচি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল, যুগ্ম প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অশোক কুমার দাস-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। মানভূম ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার জন্য যাঁরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। এদিনের কর্মসূচি থেকে বরাকের নিরীহ ও নিরপরাধ বাঙালিদের অবিলম্বে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। দলের নেতাকর্মীরা এই দাবিকে সামনে রেখে স্লোগান তোলেন এবং ভাষাগত অধিকার ও বাঙালির ঐক্যের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল মানভূম দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তাঁর বক্তব্য, বাঙালির ঐক্য ও পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা স্বাধীনতার আগেও হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ শাসনামলে প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি দেখিয়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই বাঙালিরা এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে উপলব্ধি করতে শুরু করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। গৌরাঙ্গ রুদ্রপালের দাবি, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে বাঙালির ভাষা, পরিচয় এবং ঐক্যের ওপর আঘাত এসেছে। তাঁর বক্তব্য, এই ধারাবাহিকতার পরিণতিতেই বাংলা বিভাজনের মতো ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাঙালিদের ওপর শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তাঁদের মাতৃভাষার অধিকারকেও বিভিন্নভাবে খর্ব করার চেষ্টা চলছে। ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি। মানভূম দিবসের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগীদের স্মরণ করা হলো, অন্যদিকে বরাকের বাঙালিদের মুক্তির দাবিকে সামনে এনে ভাষা ও পরিচয় রক্ষার বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় তুলে ধরল আমরা বাঙালি দল।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

8 − five =

- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় খবর

সাম্প্রতিক মন্তব্য